৮ মে ২০২৬

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আস্থা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দানের ব্যতিক্রমী ধারার জন্য এই মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিবারই এই ধারায় যুক্ত হয় নতুন চমক। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।দানবাক্স খু‌লে এবার পাওয়া গে‌ছে ৩২ বস্তা টাকা। ৪ মাস ১৭ দিন পর আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে খোলা হয় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স। সময় বে‌শি নি‌য়ে দানবাক্স খোলায় অনেকেই ধারণা করছেন, এবার দানের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। সকাল ৭টায় দানবাক্স খোলার কাজ শুরু হয় জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। পুরো এলাকা ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পু‌লিশ, সেনাবা‌হিনী, র‌্যাব ও আনসার সদস‌্যরা নিরাপত্তার দা‌য়িত্ব পালন  ক‌রেন। দানবাক্সগুলো খোলার পর সংগৃহীত টাকা বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নেওয়া হয়।টাকাগু‌লো ভর‌তে মোট ৩২টি বস্তার প্রয়োজন হয়। সঙ্গে রয়েছে সোনা-রূপার অলঙ্কার ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। মস‌জি‌দের দোতলায় বসে টাকা গুনছেন মাদরাসার প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের সহযোগিতায় কাজ করছেন রূপালী ব্যাংকের ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। সব মিলিয়ে এই গণনায় অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার শতাধিক লোক। এর আগে গত ১২ এপ্রিল দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরও আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর পাওয়া গিয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা। রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছি জানান, এবারও দেশি টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, সোনা ও রূপার অলঙ্কার মিলেছে। এসব গুনে শেষ করতে আজ সন্ধ‌্যা কিংবা রাতও হ‌য়ে যে‌তে পা‌রে। টাকা-পয়সার পাশাপাশি দানবা‌ক্সে প্রতিবারই পাওয়া যায় আবেগঘন চিঠি। কারো চাকরির আবেদন, কারো সন্তানের সাফল্যের কামনা, কেউ বা সুস্থতার জন্য দোয়া করে নিজের হাতে লেখা চিঠি ফে‌লেন দানবাক্সে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখানে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। ফলে মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে দান করেন। অনেকে টাকা ছাড়াও দান করেন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ধর্মীয় বই, মোমবাতিসহ নানা‌কিছু। গত ৪ জুলাই থেকে চালু হয়েছে মস‌জি‌দে অনলাইনে দান করার ব্যবস্থা। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখন যে কেউ ঘরে বসে দান করতে পারছেন। এ ব‌্যবস্থার কার‌ণে ভবিষ‌্যতে দান আরো বাড়বে বলে ধারণা কর‌ছে সং‌শ্লিষ্টরা। এবার অনলাইনে পাওয়া গে‌ছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, মসজিদের আয় থেকে খরচ মিটিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হচ্ছে। বর্তমানে সেই জমার পরিমাণ ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এই অর্থে নির্মিত হবে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স। সেখা‌নে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন ৫০ হাজার মুসল্লি। নারীদের জন্য থাকবে আলাদা পাঁচ হাজার জনের নামাজের জায়গা। থাকবে আধুনিক লাইব্রেরি, ধর্মীয় গবেষণা কেন্দ্র ও অন্যান্য সুবিধা। এই প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই চূড়ান্ত নকশা অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে শুরু হবে নির্মাণকাজ। পাগলা মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এখন মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা ও দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দানবাক্স খোলার প্রতিটি পর্বেই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পরিসংখ্যান, যা এই মসজিদের প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। [বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি