অভিবাসন বিতর্কে ইসলামকে ব্যবহার করায় মামদানিকে ঘিরে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেমোক্র্যাট নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শুক্রবার অভিবাসনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে ইসলাম ধর্মেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে আমেরিকানদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তবে সমালোচকদের মতে, এতে একটি মৌলিক বিরোধ আছে কারণ তাঁর নিজের ধর্ম অনুযায়ী সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
মুসলিম ধর্মাবলম্বী মামদানি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার উদ্দেশ্য নিউ ইয়র্কের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ মর্যাদা জোরদার করা এবং স্কুল ও হাসপাতালের মতো নগরসম্পত্তিতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)–এর প্রবেশ সীমিত করা।
এক আন্তঃধর্মীয় নাশতার অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, ইসলাম 'অভিবাসনের এক বয়ানের ওপর নির্মিত' তবে বাস্তবে ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা–তে অমুসলিমদের কঠোরভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং তা অমান্য করলে জরিমানা বা বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে।
মামদানি বলেন, আমি আমার নিজের বিশ্বাস ইসলামকে এমন এক ধর্ম হিসেবে দেখি, যা অভিবাসনের কাহিনির ওপর দাঁড়িয়ে। হিজরার গল্প আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নবী মুহাম্মদের কথা তিনি নিজেও ছিলেন এক আগন্তুক, যিনি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় আশ্রয় পেয়েছিলেন… যদি বিশ্বাস আমাদের আগন্তুকের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক দিকনির্দেশ দেয়, তবে সরকার দিতে পারে প্রয়োজনীয় সম্পদ। আসুন, সিটি হলের জন্য একটি নতুন প্রত্যাশা তৈরি করি যেখানে ক্ষমতা ব্যবহার হবে ভালোবাসা, আলিঙ্গন ও সুরক্ষার জন্য। আজ আমরা আগন্তুকের পাশে দাঁড়াব।
মেয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মামদানি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছেন। ২০ জানুয়ারি তিনি টেলিভিশন অনুষ্ঠান দ্য ভিউ–এ বলেন, তিনি আইসিই সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে চান। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের আইসিই এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যুক্তি দেন যে ‘ওয়ারেন্ট অব রিমুভাল/ডিপোর্টেশন’ বৈধ নয়। পরে তিনি অবস্থান জোরালো করে বলেন, তিনি কেবল নিউ ইয়র্কবাসীদের 'নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করছেন।'
শুক্রবার মামদানি আরও জানান, বিচারিক (জুডিশিয়াল) ওয়ারেন্ট ছাড়া আইসিইকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রবেশ করতে দেবেন না।
এদিকে ১৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ‘সাংকচুয়ারি সিটি’গুলোর সব ধরনের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস–এর তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন ১২টি অঙ্গরাজ্য, তিনটি কাউন্টি ও ১৮টি বড় শহরকে অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রশাসনের দাবি, তারা ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য রাখাসহ নানা গুরুতর অপরাধ ও সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধী রেকর্ডধারী বহু অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি