৪ মে ২০২৬

জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতি

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কৌশলে প্রাধান্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কৌশলে প্রাধান্য

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশলের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসাবে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, তারল্যের জোগান বাড়ানো, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা এবং ঋণ আদায় বাড়ানোর মতো পদক্ষেপগুলোতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়িয়ে নিরাপদ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্ব থাকবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানবান্ধব বিনিয়োগ নীতি গ্রহণ করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার কমানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী ২২ জানুয়ারি মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মেয়াদের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে মুদ্রানীতির ধরন কেমন হওয়া উচিত, এ নিয়ে দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে নীতি সুদের হার কমানোর বিষয়েই বেশির ভাগ বক্তা মতামত দিয়েছেন।

আগামী ৮ জানুয়ারি বরিশালে ও ১৫ জানুয়ারি রংপুরে মুদ্রানীতি নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব মতামত সমন্বয় করে আগামী ২২ জানুয়ারি মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মূলত ওই বৈঠকেই মুদ্রানীতির কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় তা উপস্থাপন করে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে মুদ্রানীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এবারের মুদ্রানীতি এমন সময় ঘোষণা করা হচ্ছে, যখন দেশ একটি নির্বাচনি আবহে মত্ত। মুদ্রানীতির বড় অংশই বাস্তবায়ন করতে হবে নির্বাচিত সরকারের সময়ে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকে নজর দেবে-এটিই স্বাভাবিক। সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবারের মুদ্রানীতিকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব করার দিকে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে ডিসেম্বর মাসের অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতের তথ্য-উপাত্তগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

সরকারের ঋণ গ্রহণের অন্যতম উপকরণ ট্রেজারি বিল বন্ডের সুদের হার ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য জমছে। এর মাধ্যমে বাজারে ঋণের সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আগামীতে তা আরও জোরালো হবে। ফলে ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী হবে। যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। এই দুই খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। রপ্তানি খাতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করে এ খাতকে আরও চাঙ্গা করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলে টানা তিন মাস রপ্তানি আয় কমার পর এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। বৈদেশিক ঋণ শোধের চাপ কমে গেছে। আমদানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বাজারে ডলারের প্রবাহ চাহিদার চেয়ে বেশি রয়েছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রয়েছে। এ ধারা বজায় রাখার নীতি অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি বাজার থেকে বাড়তি ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখবে। রিজার্ভকে বাড়িয়ে নিরাপদ মাত্রায় নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য এর ঊর্ধ্বগতি কমাতে নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের ব্যবসা সচল করে ঋণকে নিয়মিত করতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। যাতে ঋণ আদায় বাড়ে ও খেলাপি ঋণ কমে। এছাড়া ঋণ আদায় বাড়াতে ব্যাংকগুলোর ওপর নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন বাড়াতে ও ঋণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তদারকি কঠোর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হার কমাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হার এখনো ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে মূল্যস্ফীতির একটি বড় কারণ হচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি। এ জায়গাটা ঠিক করতে হবে সরকারকে। তা না হলে মূল্যস্ফীতির হার আশানুরূপ পর্যায়ে নামিয়ে আনা কঠিন হবে।

মুদ্রানীতিতে উৎপাদন খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণের জোগান বাড়াতে ইতোমধ্যেই ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বড় শিল্পের ঋণের জোগানও বাড়ানো হবে। এ জন্য ব্যাংক খাতের সীমাবদ্ধতাগুলো নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি