৫ মে ২০২৬

অর্থের অভাবে বন্ধ পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
অর্থের অভাবে বন্ধ পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : চার বছর পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নির্মাণ কাজ অর্ধেকই সম্পন্ন করতে পারেননি ঠিকাদার। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের অদূরে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরি হরিণমারী এলাকায় বর্তমানে অত্যধিক গুরুত্বপূণ এই ফায়ার সার্ভিস ভবন প্রস্তুতের কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় এক বছর ধরে। এতে করে ফায়ার সার্ভিসের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ৩ লক্ষাধীক মানুষ।

এ ছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১৫৬টি উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সাদুল্লাপুর উপজেলার সাদুল্লাপুর-তুলসীঘাট সড়কের সাদুল্লাপুর গার্লস কলেজ সংলগ্ন আরেকটি ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সুত্রে জানা যায়, জেলার সাত উপজেলায় গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ অর্থ বরাদ্দের অভাবে বন্ধ আছে ও সাদুল্লাপুরের নির্মাণ কাজ চলছে।

গাইবান্ধা গণপূর্ত বিভাগ সুত্রে জানা যায়, এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পলাশবাড়ী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ মে আর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে। সাদুল্লাপুরে চার কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয় আর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর। ফায়ার সার্ভিসের একটি ভবন প্রস্তুত করতে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর।

পলাশবাড়ী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস হচ্ছে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মধ্যে পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হচ্ছে একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই তিন উপজেলার মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর সংখ্যা অত্যধিক বেশি। কিন্তু এই ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি চার বছর পেরিয়ে গেলেও এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় এক বছর ধরে। বর্তমানে পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় কোন দুর্ঘটনা বা অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়না।

কেননা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে আসতে হচ্ছে গোবিন্দগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিস থেকে। তাই অতিদ্রুত পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ শুরু করে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ভেতরে নির্মাণ সামগ্রীর কিছু উপকরণ এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। শুধু ভবন ও সামনে দুইটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করা হলেও রং করা হয়নি। মহাসড়ক থেকে সংযোগ সড়কটিও রয়েছে কাঁচা।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম দ্রুত চালু করা প্রয়োজন হলেও সেটিই পড়েছে পিছিয়ে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলা হচ্ছে একটি দুর্ঘটনাপ্রবন উপজেলা। বর্তমানে গাইবান্ধা সদর ও গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে পলাশবাড়ী উপজেলা ও মহাসড়কসহ সাদুল্লাপুর উপজেলায় সেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দ্রুত পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

গাইবান্ধা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কাজ অর্থ বরাদ্দের অভাবে আটকে আছে। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এখন সেটি একনেকে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সাদুল্লাপুর ফায়ার সার্ভিসের কাজ চলমান রয়েছে।

বাংলাপ্রেস/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি