৫ মে ২০২৬

অর্থায়ন বিল আটকে যাওয়ায় শাটডাউনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
অর্থায়ন বিল আটকে যাওয়ায় শাটডাউনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার

নোমান সাবিত: শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে বিলটি পাস না হলে সরকার শাটডাউনের মুখে পড়বে এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অর্থায়ন প্যাকেজ আটকে দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি। বিলটি এগিয়ে নিতে আনা প্রস্তাবটি ভোটে পরাজিত হয় ৪৫–৫৫ ব্যবধানে।
সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন (রিপাবলিকান–দক্ষিণ ডাকোটা) সহ আটজন রিপাবলিকান সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। থুন শেষ মুহূর্তে ‘না’ ভোট দেন এবং পরে বিলটি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যাতে ভবিষ্যতে দ্রুত এটি আবার ফ্লোরে তোলার সুযোগ থাকে।
ডেমোক্র্যাটরা ছয়টি বিলের এই অর্থায়ন প্যাকেজ আটকে দেন, কারণ এতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন যতক্ষণ না আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ব্যাপক অভিবাসন অভিযান নিয়ন্ত্রণে আনতে সংস্কারে রাজি হয় এবং ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সহিংস সংঘর্ষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, ততক্ষণ তারা ডিএইচএস অর্থায়নে সমর্থন দেবেন না।
সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির ভাইস চেয়ার প্যাটি মারে (ডেমোক্র্যাট–ওয়াশিংটন), যিনি এই ব্যয় প্যাকেজের আলোচনায় বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সিনেট ফ্লোরে ঘোষণা করেন যে তিনি 'না' ভোট দেবেন, কারণ হোয়াইট হাউস এখনও ডিএইচএস অর্থায়ন বিল থেকে আলাদা করার বিষয়ে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ডিএইচএস বাদ দিয়ে বাকি পাঁচটি বিল পাস করতে 'খুবই আগ্রহী,' কিন্তু ডিএইচএস অন্তর্ভুক্ত কোনো প্যাকেজ তাঁর ও অন্যান্য ডেমোক্র্যাটের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
মারে বলেন, শিশু পরিচর্যা, ক্যান্সার গবেষণা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, আমাদের সেনাবাহিনী এসবের অর্থায়নে আমরা সবাই একমত। কিন্তু জবাবদিহিতায় বাস্তব অগ্রগতি না হলে আমরা ডিএইচএস বিল এগোতে দেব না। 
তিনি আরও বলেন, আইসিই ও সিবিপি (কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন) নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল যে প্যাকেজটি এগোতে পারে, কারণ বুধবার সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও ট্রাম্পের টিম ডিএইচএস বিল আলাদা করে ভবিষ্যৎ সংস্কারের জন্য রেখে দেওয়ার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি করেছিল।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র দ্য হিল-কে জানায়, তখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে আলোচনা চলছিল এবং ডেমোক্র্যাটদের দিকেই এগোচ্ছিল।
তবু এই অগ্রগতি প্যাটি মারে ও অন্যান্য ডেমোক্র্যাটকে বিল এগিয়ে নিতে রাজি করাতে পারেনি।
মারে বলেন, হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকানরা এখন পাঁচটি বিল পাস ও ডিএইচএস আলাদা করার বিষয়ে কথা বলছে—এটা দেখে আমি আনন্দিত। কিন্তু চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আমি এই ভোটে ‘না’ থাকব।
এক চমকপ্রদ ঘটনায়, মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান (পেনসিলভানিয়া)—যিনি অতীতে দীর্ঘ শাটডাউনের জন্য নিজের দলকে সমালোচনা করেছিলেন তিনিও বিল এগিয়ে নেওয়ার বিপক্ষে ভোট দেন।
ফেটারম্যানের ভাবনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ছয়-বিলের প্যাকেজ আটকে দিয়ে ডিএইচএস অর্থায়ন বিলকে বাকি পাঁচটি বিল থেকে আলাদা করার পথ তৈরি করা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ফেটারম্যান ট্রাম্পকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এছাড়া আর্থিকভাবে কড়াকড়ির পক্ষে থাকা সাতজন রিপাবলিকান সিনেটরও বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—র‌্যান্ড পল (কেন্টাকি), টেড বাড (নর্থ ক্যারোলাইনা), রন জনসন (উইসকনসিন), মাইক লি (উটাহ), অ্যাশলি মুডি (ফ্লোরিডা), রিক স্কট (ফ্লোরিডা) ও টমি টাবারভিল (আলাবামা)।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি