অনিয়ম আজ নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে করমন্দী কলেজে
মেহেরপুর প্রতিনিধি:ব্যবহারিক পরিক্ষায় হয় টাকা,অন্যথায় ফেল, টাকা ছাড়া ব্যবহারিক পরিক্ষার খাতা স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে করমন্দী কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।টাকা দিলে ভালো নাম্বার,না দিলে কম প্রতিবাদ করলে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে পরিক্ষার্থীদের, এমন অভিযোগ পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
পরিক্ষার্থী ও অভিভাবক ও কলেজ অফিস জানায়, মেহেরপুর গাংনী উপজেলার করমন্দী কলেজে থেকে চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ১৯০জন অংশ গ্রহন করে।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য ১০০ নাম্বারের তথ্য প্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়।তাই ভাল ফল বা পাশ করাতে ব্যবহারিক পরিক্ষার নাম্বার খুবিই গুরুত্বপূর্ন পরিক্ষর্থীদের কাছে।
পরিক্ষর্থী বেশি হওয়ায় এবং পরিক্ষর্থীদের সুবিধার্থে শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কলেজে শিক্ষক গ্রহন করে কেন্দ্রে নাম্বার পাঠাতে পারবেন। এজন্য বোর্ড থেকে খরচ বাবদ পরিক্ষর্থী প্রতি ১৫টাকা হারে পাবেন ওই শিক্ষক।অপর দিকে ব্যবহারিকের অন্যান্য সকল বিষয়ের পরিক্ষা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।লিখিত পরিক্ষা শেষ হলে মেহেরপুরে কলেজ গুলোতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহারিক পরিক্ষা।চলতি মাসেই শেষ হবে ব্যবহারিক পরিক্ষা।
এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে করমন্দী কলেজের শিক্ষকেরা প্রতি পরিক্ষর্থীর কাছে থেকে প্রতি বিষয়ে ১৫০-২০০টাকা আদায় করছেন।টাকা না দিলে ফেল করিয়ে দেওয়া হুমকি দেওয়া হচ্ছে।ফেল করার ভয়ে পরিক্ষা শুরু হওয়ার আগেই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন পরিক্ষর্থী ও অভিভাবকেরা।পরিক্ষার কক্ষে প্রবেশের আগে এ টাকা জমা দিতে হবে বলে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানন পরিক্ষর্থীরা।
শুধু তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে নয় এ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ,মানবিক বিভাগ,ব্যবসায়ী বিভাগের ব্যবহারিকের জন্য নেওয়া হচ্ছে টাকা।তবে এ সকল বিষয়ের শিক্ষকদের দাবি তাদের কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।তাই কেন্দ্র কলেজে পরিক্ষার্থী প্রতি বিনা রশিদে একটা খরচ দিতে হয়।এ খরচ যোগাতে পরিক্ষর্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক করমন্দীর কলেজের একাধিক পরিক্ষর্থী জানায়,অন্য বিষয়ের পরিক্ষা কেন্দ্রে হবে তাই কেন্দ্র ফি'র অজুহাতে ব্যবহারিক পরিক্ষার টাকা নেন বহিরাগত শিক্ষকে ম্যনোজ করতে।কিন্তুু শিক্ষক ব্যবহারিক পরিক্ষার আগেই পরিক্ষর্থী দের কাছে থেকে গুনে গুনে ১৫০-২০০টাকা নিচ্ছেন প্রতি বিষয়ে,না দিলে ফেল করার হুমকি দিচ্ছে।
নাম প্রকাশ করা যাবে না,এমন শর্তে এক পরিক্ষর্থীর বাবা জানা,আমার ছেলে করমন্দী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে,তার ব্যবহারিক টাকা সংগ্রহ করতে পারি নি,তাকে তাকে দের মন(৬০কেজি) ধান বিক্রয় করে, তার পর টাকা দিয়েছি।পরিক্ষার্থী বাবা আরো জানান,লিটন স্যার আমার ছেলেকে ৯০০টাকা দাবি করে, টাকা না দিলে ব্যবহারিক পরিক্ষায় নাম্বার, না দিয়ে ফেল করানোর হুমকি দেয়।তাই ভয়ে পড়ে আমি ধান বিক্রয় করে ছেলের হাতে টাকা তুলি দিই।
করমন্দী কলেজের প্রভাষক আঃরফ (লিটন) জানান,একটা পরিক্ষা চালাতে কিছু খরচ আছে, তাই পরিক্ষার্থী কাছে থেকে প্রতি বিষয়ে জন্য মাত্র ১৫০-২০০টাকা নেওয়া হচ্ছে।কলেজ অধ্যক্ষের অনুমতিতেই টাকা আদায় করে তাকে জমা দেওয়া হচ্ছে,অনেক কলেজ প্রত্যব বিষয়ে ৩০০-৫০০টাকাও নিচ্ছে।তার তুলনায় আমরা অনেক কম নিচ্ছি।
করমন্দী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল হক জানান,এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই,এই বলে ফোন কেটে দেন।বার বার মুঠোফোনে ফোন দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি