নুসরাত হত্যার ঘটনায় গাফিলতি করায় ফেনীর এসপি প্রত্যাহার

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: পরীক্ষাকেন্দ্রে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা। রোববার বিকেলে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনীর পুলিশ সুপারের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে চাঁদপুরের পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।
এই হত্যাকাণ্ডে এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে গুঞ্জন ছিল। শিগগিরই তাকে বরখাস্ত করা হবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল।
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যান। সে সময় মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় যান।
সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত।
ওই ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে সোনাগাজী থানায় অভিযোগ নিয়ে যাওয়া নুসরাতের সঙ্গে ওসি মোয়াজ্জেমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ‘নুসরাতের পরিবারকে অসহযোগিতার অভিযোগে’ প্রত্যাহার করা হয় ওসিকে। এরপর পুলিশ সদরদফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি