৮ মে ২০২৬

নতুন নেতৃত্বে রানাকে চায় সৈয়দপুরবাসী 

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
নতুন নেতৃত্বে রানাকে চায় সৈয়দপুরবাসী 
সৈয়দপুর ( নীলফামারী) প্রতিনিধি: দেশে অষ্টম বাণিজ্যিক শহর হিসেবে সৈয়দপুরের পরিচিতি রয়েছে। কালের বিবর্তনে এখন অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল গড়ে তোলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ৯০ দশকের পূর্বে এখানে তৈরী হত ট্রেনের নতুন কোচ। সরকারি দপ্তরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস ছিল। ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা থেকে নিয়ে পাট ব্যবসার মূল কেন্দ্র ছিল এই সৈয়দপুর।
বর্তমানে সৈয়দপুর চলছে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন কিছু প্রয়াত নেতা সাবেক এমপি মরহুম আলিম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম বখতিয়ার কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদ মাষ্টার, সাবেক পৌর মেয়র মরহুম আখতার হোসেন বাদল, সাবেক সংসদ সদস্য ও বার বার নির্বাচিত মেয়র মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার-এর মত নেতা সৈয়দপুরের উন্নয়নের  নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৈয়দপুরের জনগণ দাড়িয়ে আছে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে। তাই বিগত দিনগুলোকে স্মরণ করেই নতুন নেতৃত্ব চায় সৈয়দপুরবাসী। ভোটের রাজনীতির কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে আছে এই শহর। এখন এক মুখ বার বার দেখতে চায়না সাধারণ জনগণ। বহু আশা নিয়ে একাধিকবার নির্বাচিত করেও আশানুরুপ ফল পাননি এলাকার মানুষ। তাই সৈয়দপুরের উন্নয়নমূলক চিন্তা ধারার নেতৃত্ব চান জনগণ।
কামারপুকুর ইউনিয়নের মাসুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে বহুনেতা দেখেছি। এ পর্যন্ত যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তার অবদান প্রয়াত নেতা আমজাদ হোসেন সরকারের নেতৃত্বেই হয়েছে। তাই আমরা নতুন নেতৃত্বের খোঁজে মৃত আমজাদ হোসেন সরকারের ছেলে রানাকে খুঁজে পেয়েছি।
কাশিরাম বেলপুকুর ইউপির লালবাবু বলেন, করোনার আগে পর্যন্ত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ছিল। সরকারি সিধান্তে কিছু উন্নয়ন চললেও শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেগুলো অনেকটা থমকে আছে। আমি মনে করি শুধুমাত্র সৈয়দপুরকে ভালবাসে এমন একটা নতুন নেতৃত্বে উন্নয়ন সম্ভব। বিগত দিনে প্রয়াত নেতার অবদানকে মনে রেখে আমার কাছে মৃত আমজাদ হোসেন সরকারের ছেলে রানা যদি নেতৃত্বের দায়িত্ব নেয় তবে এ জনপদের মানুষ আশার আলো দেখবে।
বাঙ্গালীপুর ইউপির এমদাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নেতাদের কোন্দলের কারণে সৈয়দপুরের উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সৈয়দপুর আরও খারাপের দিকে ধাবিত হবে। তাই আমি মনে করি বর্তমান নেতাদের উচিত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা। অতীতে দেখেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার যেভাবে সৈয়দপুরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তার মৃত্যুতে সবকিছুই হারিয়ে গেছে।
এ পর্যন্ত অনেক নেতৃত্বের দায়িত্ব কাধে নিয়ে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে হাসিল করেছেন। তাই আমরা নতুন নেতৃত্বের জন্য মরহুম আমজাদ হোসেন সরকারের ছেলে রানাকে সৈয়দপুরের বৃহত্তম স্বার্থে নেতৃত্বের আসনে বসাতে চাই। তার শিকড়ে রয়েছে জন¯স্বার্থের বীজ। সে যদি নেতৃত্বের দায়িত্ব নেয় তবে সৈয়দপুরের মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখবে।
বোতলাগাড়ী ইউপির সোনাখুলি এলাকার কমল বলেন, আমরা অনেক নেতা পেয়েছি কিন্তু মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার যেভাবে সৈয়দপুরকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তার কিঞ্চিত পরিমাণ অবদান এখনো পর্যন্ত কেউ রাখতে পারেনি। নিজ স্বার্থে হাসিলের চেষ্টায় কোন্দল বাড়িয়ে সৈয়দপুরের উন্নয়নকে পিছিয়ে রেখেছে। এখন যদি তারই উত্তরসুরি এই দায়িত্ব কাঁধে নেয় তবেই সৈয়দপুরের উন্নয়ন সম্ভব।
খাতামধুপুর ইউপির আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণ চায় জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সাথে থেকে সঠিক নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন হোক। কিন্তু আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুন্দর জীবন-যাপনে ব্যর্থ হচ্ছি শুধুমাত্র ভাল নেতৃত্বের অভাবে। সঠিক ও সৎ নেতৃত্বের অভাবে দিনে দিনে পিছিয়ে পড়ছে সৈয়দপুর। প্রয়াত নেতা মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার সৈয়দপরের জনগণের জন্য যা করে গেছেন এখনও পর্যন্ত কেউ তার সিকি পরিমাণ করতে পারিনি। তিনি এমপি থাকাকালীন গ্রামীণ জনপদের অনেক উন্নয়ন করেছেন। শহরকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলেছেন। এমন একজন নেতৃত্বের প্রয়োজন সৈয়দপুরকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমজাদ হোসেন সরকারের সন্তান রানা যদি এই দায়িত্ব কাঁধে নেয়, তাহলে সৈয়দপুরের উন্নয়ন নিয়ে শংকা থাকবে না।
পাটোয়ারী পাড়া ১০ নং ওয়ার্ডের মোঃ ফরিদ সরকার বলেন, বর্তমান সৈয়পুর অগোছালো নেতৃত্বের কারণে নতুন প্রজন্ম আমরা চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। এখন দরকার আমজাদ হোসেন সরকারের মত একজন তুখোড় নেতৃত্ব। যা আমরা তার সন্তান রানার কাছ থেকেই আশা করছি। তার চাওয়া-পাওয়া কিছুই নাই। সে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান । সে উচ্চ শিক্ষিত, বিনয়ী, একটা ছেলে। মরহুম আমজাদ হোসেন সরকারের অনেক গুণই তার মধ্যে বিদ্যমান। তাকে আমরা ছোট থেকেই দেখছি স্বভাব চরিত্রের দিক থেকে যথেষ্ট ভাল। তিনি আরও বলেন, ১৯৮৯ সালের ২ ডিসেম্বর পৈতৃক ভিটায় তার জন্ম। ছোট থেকে মেধাবী হওয়ার কারণে ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি পায়। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ভারতে একটি আবাসিক স্কুলে লেখাপড়া করে। ২০০৬ সালে আমেরিকায় যায় পড়াশুনার তাগিদে। পেনসিলভিনিয়া থেকে স্কলারশীপ নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ওহাইও অঙ্গ প্রদেশ থেকে। সেখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে ছয় বছর শিক্ষকতা করেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস এ খন্ডকালীণ শিক্ষকতা করেন। বাবার মৃত্যুর সময় সে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেশে আসতে পারিনি। ২০২২ এর জুনে সৈয়দপুরে ফিরে আসলে বর্ণীল আয়োজনে তাকে সৈয়দপুরবাসী বরণ করে নেয়। প্রবাসে থাকাকালীন জনসেবার নেশা তার মধ্যে আমরা দেখতে পাই। তার বাবার সাথে সৈয়দপুরের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিত। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসেবায় সব ধরণের সহযোগিতা করতে দেখেছি। এমনকি পৌরবাসীর জন্য পৌর কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন, শহীদ ক্যাপ্টেন মৃধা শামসুল হুদা দৃষ্টিনন্দন সড়কের ডিভাইডার স্থাপনে তারই পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন সময় বাবাকে জনসেবা চালিয়ে যাওয়ার মনোবল বাড়াতো। বাবার ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখতে এবং সৈয়দপুরের মানুষের সাথে নিজেকে বাবার মত আজীবন, মানবসেবা করে যাওয়ার প্রত্যয়ে জনগণের পাশে থেকে নিজেকে উৎসর্গ করার আশা তার মধ্যে দেখতে পাই। বর্তমানে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। মূল উদ্দেশ্য তার বাবার মতই জনসেবা করা। তার বাবা মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ এবং মকবুল হোসেন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও টেকনিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ ছিলেন। তার মা হানিফা খাতুন রেহানা প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন এবং সে (রানা) নিজেও আমেরিকায় ও বাংলাদেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষকতা করেছেন। এক কথায় পুরো পরিবারই মানুষ গড়ার কারিগর।
তার বাবা যেমন উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে সৈয়দপুরের নেতৃত্ব নিয়েছিল, আমরা চাই মোঃ রিয়াদ আরফান সরকার রানাও উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সৈয়দপুরের নেতৃত্বের দায়িত্বভার কাঁধে নেবে।
নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী জবাবদিহিতা ও পরিচ্ছন্ন  রাজনীতির পরিমন্ডলে থেকে জনসেবাই তার মূল লক্ষ্য। তাকে যদি নেতৃত্বে আনতে পারি তাহলে তার বাবা সৈয়দপুরকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সম্মান ছিনিয়ে এনেছে এবং সে সৈয়দপুরকে সারা বিশ্বের কাছে মডেল সৈয়দপুর হিসেবে সম্মান ছিনিয়ে আনবে। আমার বিশ্বাস সকলের মতামত নিয়েই সৈয়দপুরের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে। পরিশেষে তার বাবার শেষ উক্তিটির সাথে সেও একাত্মতা ঘোষণা করে বলে, “তোরা যারা সৈয়দপুরকে নিয়ে চিন্তা করিস আমাকেও তোদের সহিত জরিত করিস, তোরা ভাল থাক এটাই আমার কামনা, বাসনা।”
বিপি/টিআই
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি