৫ মে ২০২৬

নোবেল পুরস্কার নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে নয়, আমার কিছু যায় আসে না: ট্রাম্প

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ বিকাল
নোবেল পুরস্কার নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে নয়, আমার কিছু যায় আসে না: ট্রাম্প

মিনারা হেলেন: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জোর দিয়ে বলেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে “মাথা ঘামান না।” তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নরওয়ে আসলে এই পুরস্কার 'নিয়ন্ত্রণ করে' যদিও দেশটির নেতারা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন যে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের কোনো ভূমিকা আছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি নোবেল পুরস্কার নিয়ে চিন্তা করি না।
তিনি আরও যোগ করেন, 'প্রথমত, একজন অত্যন্ত সম্মানিত নারী মনে করেছিলেন আমি এটি প্রাপ্য এবং সত্যিই চেয়েছিলেন আমি নোবেল পুরস্কার পাই। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তিনি এখানে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথা উল্লেখ করেন, যিনি গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে নিজের ১৮ ক্যারেট সোনার নোবেল মেডেল ট্রাম্পকে উপহার দেন।
এই ঘটনার পরদিনই নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, পুরস্কারের প্রতীক মেডেল ও ডিপ্লোমা হস্তান্তর করা যেতে পারে, কিন্তু পুরস্কারের সম্মান ও স্বীকৃতি 'অবিচ্ছিন্নভাবে' বিজয়ীর সঙ্গেই যুক্ত থাকে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে কয়েক দিন পর, যখন তিনি বহুদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কারকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে লেখা এক চিঠিতে তিনি লেখেন, নোবেল না পাওয়ায় তিনি আর “শুধু শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য” নন।
নিউজ নেশন–এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প চিঠিতে লেখেন,প্রিয় ইয়োনাস, যেহেতু তোমাদের দেশ আটটি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি আর নিজেকে কেবল শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য মনে করি না যদিও শান্তি সবসময়ই প্রধান থাকবে তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী ভালো ও উপযুক্ত, সেটাও ভাবতে পারি।
সোমবার এক বিবৃতিতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে স্পষ্ট করে বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে নরওয়েজিয়ান সরকারের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
তিনি লেখেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার সম্পর্কে আমি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও যা সবারই জানা, এই পুরস্কার একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি প্রদান করে, নরওয়েজিয়ান সরকার নয়।
তবে সোমবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করে নরওয়ে নোবেল পুরস্কার নিয়ন্ত্রণ করে না, তাহলে তারা নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে। ওদের একটা বোর্ড আছে, কিন্তু সেটা নরওয়ের নিয়ন্ত্রণেই। আর নরওয়ে কী বলেছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
মাচাদো পুরস্কার পাওয়ার আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বহু মাস ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তদবির করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, একাধিক যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখায় তিনি এটি প্রাপ্য।
কিন্তু সত্যি বলতে, আমি নোবেল পুরস্কার নিয়ে ভাবি না, সোমবার আবার বলেন ট্রাম্প। আমি যেটা নিয়ে ভাবি, তা হলো জীবন বাঁচানো। আমার মনে হয় আমি কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি… আমরা আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি, আর হয়তো খুব শিগগিরই নবমটাও থামাব -দেখা যাক।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শনিবার তিনি ঘোষণা দেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক ও তার মিত্রদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুনে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।
ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
তীব্র বিরোধিতা ও ন্যাটো জোট ভেঙে পড়ার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি