৪ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কে তিন জালিয়াতকারী ধংস করেছে ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ সমিতি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
নিউ ইয়র্কে তিন জালিয়াতকারী ধংস করেছে ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ সমিতি
  মিনারা হেলেন: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ অ্যাসোসিশনের সাড়ে তিন কোটি টাকা লোপাটের মাধ্যমে সংগঠনটিকে ধংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে তিন জালিয়াতকারী। মুলতঃ বর্তমান সাধারন সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী যোগসাজস করে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮ শত ৬ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬ টাকা) উত্তোলন করে নিজের ইচ্ছেমত খরচ করেন যা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। রোববার (১০ ডিসেম্বর) জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় জালালাবাদ অ্যাসোসিশন অব আমেরিকা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন। সংগঠনের নেতারা বলেন, নিয়ম বর্হিভূত জালাবাদের অর্থ তুলে ‘কথিত জালালাবাদ ভবন’ ক্রয়ের নামে সাধারন সম্পাদক মইনুল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। এই অর্থ আদায়ে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করছি বিজ্ঞ আদালতের সুবিচারে জালালাবাদবাসী এই অর্থ ফেরত পাবেন। কিন্তু জালালাবাদের ৩ লাখ ৩২ হাজার ডলার তুলে মইনুল যে বাড়ি ক্রয় করেছিল তা আজ নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ব্যাংক গত ৮ মাসে মইনুলের কাছ থেকে মর্টগেজ না পাওয়ায় তা ফরক্লোজার বা নিলামে যাবার পথে। এমতাবস্থায় জালালাবাদের প্রায় সোয়া ৩ লাখ ডলার নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি বৃহত্তর সিলেটবাসীকে অবহিত করার জন্যই আমরা সাংবাদিকদের সন্মুখে হাজির হয়েছি। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সাধারন সম্পাদক রোকন হাকিম। বদরুল খান বলেন, মইনুল ইসলাম ‘কথিত জালালাবাদ ভবন’ এর বাড়িটি ক্রয়কালে অবৈধভাবে জালালাবাদের ফান্ড থেকে ৩ লাখ ৩২ হাজার ডলার তুলে ডাউন পেমেন্ট প্রদান করে। বাড়িটি ক্রয়কালে সংগঠনের তহবিল থেকে অর্থ নেয়ায় আমরা লিয়েন হিসেবে দাবি করি। কিন্তু মইনুল গত ৮ মাস ধরে মর্টগেজ না দেয়ায় বাড়িটি ফরক্লোজারে যাবার উপক্রম হয়েছে। তার কাগজপত্র আমরা ব্যাংক থেকে পেয়েছি। আর বাড়িটি ব্যাংক নিয়ে নিলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে সাধারন সম্পাদক রোকন হাকিম বলেন, মইনুলের অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আশাকরি সহসাই তার নিষ্পত্তি হবে। উল্লেখ্য চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ড ও কার্যকরি কমিটির যৌথ সভায় সাধারন সম্পাদকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলামকে গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৬ ধারা ৭ (ক), অনুচ্ছেদ ৯ (গ) ও (ঘ), অনুচ্ছেদ ১৬ (৬) ধারার সুস্পষ্ট লংঘনের দায়ে তাকে সংগঠন বিরোধী কর্মক্রমের দায়ে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই সঙ্গে সহ-সাধারন সম্পাদক রোকন হাকিমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। উক্ত সভায় সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজকে গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদর একই ধারার সুস্পষ্ট লংঘন এবং সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম ও সংগঠনের অর্থ লোপাটের দায়ে তাদেরকে আজীবন সদস্য পদ কেন বাতিল করা হবে না? এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়াও নতুন কার্যকরী কমিটির উপরে রেখে যাওয়া বিদায়ী কমিটির নিউ জার্সিস্থ কবরস্থানের মর্গেজ পেমেন্ট আগামীতে জালালাবাদ বাসির স্বার্থে কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং কার্যকরী কমিটির কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আগামীতে পেমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বহিস্কৃত সাধারন মইনুল ইসলাম জালালাবাদ ইউএসএ ইনক নামের একটি করপোরেশন গঠন করে নিজে একটি বাড়ি কেনেন। এ বাড়ি ক্রয়কালে মইনুল সংগঠনের একাউন্ট থেকে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮ শত ৬ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬ টাকা) গোপনে উত্তোলন করেছেন। সংগঠনের তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে অসাংবিধানিক ও অগঠনতান্ত্রিক কাজ তিনি করেছেন।   ২০২০ সালে মইনুল সংগঠনের তহবিল থেকে আড়াই লাখ ডলার এম এ আজিজের ‘কোর কনস্ট্রাকশন গ্রুপের’ একাউন্টে ট্রান্সফার করেছিলেন। এম এ আজিজকে কমিউনিটির লোকজন চেনেন। অথচ সংগঠনের সংবিধানে রয়েছে ৫ হাজার ডলারের বেশি তহবিল থেকে তুলতে হলে কার্যকরি কমিটিসহ ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমতি লাগে। মইনুলের এইসব অসাংগঠনিক কাজের অংশীদার সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল ও মিজানুর রহমান শেফাজ। তবে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮ শত ৬ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬ টাকা)। সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল অর্থ লোপাটের নাটের গুরু বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর দুই বছর মেয়াদী সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সংবিধান লংঘন করে অনৈতিকভাবে সাড়ে তিন বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনের আগে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাক পরিচালনার কথা বললেও তার সময়েই বাক ভেঙ্গে ৬ ভাগে বিভক্ত হয়ে ৬টি আঞ্চলিক সংগঠনের জন্ম হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহামারি করোনাকালীন সময়ে তিনি বাক-এর কতিপয় সদস্যদের সাথে নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের নামের নানা ধরনের নাটক করেন। দোকান থেকে ত্রাণের মালামাল কিনে মানুষের মাঝে বিতরণের ছবি তুলে পরে তা দোকানে ফেরত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সাবেক গণসংযোগ সম্পাদক একেএম মেজবাহ উদ্দিন। তার এহেন কর্মকান্ডের খবর দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পেলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা আজমল হোসেন কুনু, বদরুন নাহার খান মিতা, সদরুন নুর, শফি উদ্দীন তালুকদার, আব্দুল আলীম, মিজবাহ মজিদ, মিজবাহ আহমেদ, আতাউর রহমান সেলিম, আহমেদ জিলু, জুনেদ এ খান, এডভোকেট নাসির উদ্দীন, ফয়সল আলম, সাইফুর খান হারুন,শামীম আহমেদ ও মান্না মুনতাসির উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি