নিউ ইয়র্কে পতাকার আদলে ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
নোমান সবিত: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চারদিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকেলে 'বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে' তৈরি ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ঘটনা জাতীয় পতাকার অবমাননার সামিল বলে উল্লেখ করেছেন সচেতন প্রবাসীরা।
শুক্রবার বিকেলে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফমিং আর্টস সেন্টারে ৩২তম মেলা যৌথভাবে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সেতারা রহমান (বীর প্রতীক)ও কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান। দেশ ও প্রবাসীর বিভিন্ন লেখক, সাহিত্যিক ও কথিত বুদ্ধিজীবিদের উপস্থিতিতে তাঁরা 'বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে' তৈরি ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় মেলা কমিটির সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি বিশ্বজিত সাহা। এ ঘটনা জাতীয় পতাকার চরম অবমাননা করা হচ্ছে জেনেও উপস্থিত কেউ এর প্রতিবাদ করেননি। মেলা উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বইমেলা নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আদম আমদানির সুবিধার্থে দেওয়া এ প্রস্তাবে প্রচুর করতালি দিয়ে উপস্থিত সবাই সমর্থন জানান। আন্তর্জাতিক বইমেলা নামকরণের এ ঘোষণা দেন বইমেলার আহবায়ক, বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুন নূর ঘোষনার সাথে একাত্ততা প্রকাশ করেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরান নবী। আগামী বছর থেকে অর্থাৎ ৩৩তম বইমেলার নামকরণ হলো ‘নিউইয়র্ক বাংলা আন্তর্জাতিক বইমেলা’।
'বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে' তৈরি ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বই মেলার উদ্বোধনীতে এ ধরণের ঘটনা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। উপস্থিত সকলেই কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক ও মুক্তিযোদ্ধা। জাতীয় পতাকার আদলে কোন কিছু তৈরি করে কাটা বা পোড়ানো জাতীয় পতাকার চরম অবমাননা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কারো মাথায় এটা ঢুকলো না। আর আয়োজকরাই বা কীভাবে এটা তৈরি করেন তা ভাবতেও পারছি না। তারা সত্যিই যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে জাতীয় পতাকার অবমাননাকারী ও এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি। সেই সাথী তিনি এ ঘটনার জন্য নিন্দা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথা হয়েছে এ প্রতিনিধির। তারা এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, বই মেলার নামে সংঘবদ্ধ এই চক্রটির বাংলাদেশ ও কলকাতা থেকে আদম ব্যবসা বন্ধ হওয়া দরকার। গত ৩১ বছর ধরে সেই একই ব্যক্তিরাই বই মেলার সঙ্গে জড়িত থেকে অবৈধভাবে নানা ধরনের বাণিজ্য করে আসছেন। বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি আরোপের পর বিশেষ করে এবারে বেশি আদম আমদানী হয়েছে কলকাতা থেকে। শুধু তাই নয় প্রতিবারের বইমেলাতেই মুসলমান লেখক প্রকাশকের চেয়ে সনাতনী লেখক প্রকাশকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার বইমেলার উদ্বোধনের পর মিলনায়তনের ভেতরের মূলমঞ্চে উঠার সময় ৩২ বছরের মেলার মূলপর্বের আগে ৩২ জন খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক-লেখক-প্রকাশককে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় এবং তারা ৩২টি প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। প্রদীপ প্রজ্জলকারীদের মধ্যে ছিলেন-বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমান, কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’র প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার, অভিনেত্রী রেখা আহমদ, লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, লেখক ফেরদৌস সাজেদীন, জসীম মল্লিক, প্রকাশ মনিরুল হক, নালন্দা প্রকাশনী’র রেদয়ানুর রহমান জুয়েল, কাহিনীক-এর কর্ণধার ইফতেখার ইভান, কথা প্রকাশ-এর জসিম উদ্দিন, অন্বয় প্রকাশ-এর কর্ণধার ছড়াকার হুমায়ুন কবীর ঢালী, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বইমেলার প্রধান অতিথি, বাংলাদেশের জীবিত একমাত্র বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমান বলেন, ‘আমি এখানে এসে এতো আনন্দিত, খুশি এবং গর্বিত। মনে হচ্ছে যে, আমার বীর প্রতীক খেতাব পাওয়াটা বোধহয় স্বার্থকই হয়েছে। কারণ, এখানে এত বাঙালী-বাংলাদেশ, কলকাতা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানী, অস্ট্রিলিয়া থেকে এসেছেন, সবারই একটি পরিচয়, তা হচ্ছে বাঙালী।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৭৮ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা রহমান বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বলে চেয়ারে বসে বক্তব্য প্রদান করেন।
মেলার উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বইমেলা শব্দটি আমার কাছে মনে হয় এটি একটি প্রবেশদ্বার, এটি বইয়ের জগতকে আপনার সামনে উম্মুক্ত করে দেয়। যখনই কেউ বইয়ের জগতে প্রবেশ করেন তখনই তার কল্পনাজগত এবং সৃজনশীলতার জগতে প্রবেশ করেন। যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন এবং নিজের সম্ভাবনাগুলোকে নতুন করে আবিষ্কারের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। আর এমন একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে বহুজাতিক এ সমাজে।’
ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশের লেখক-কবি-সাহিত্যিকগণের মধ্যে যারা এই প্রবাসে স্থায়ীভাবে বাস করছেন তাদের সেই সত্ত্বা অটুট রেখে বাঙালী সংস্কৃতির ফল্গুধারা নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের চমৎকার একটি পরিবেশ তৈরি করেছে এই বইমেলা। একইসাথে আমি আরো মনে করছি, যারা বাংলাদেশে থাকতে লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন না, তাদেরও একটি অংশ এই প্রবাসে লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং উৎসাহবোধ করছেন গত ৩২ বছরের এই মেলা থেকে। প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, আবেগ, যে অনুভূতি তা প্রকাশ করার জন্য অনেকে লেখছেন অথবা উদ্যোগী হয়েছেন। তাই এই বইমেলা শুধু বই পড়ার জন্যই নয়, নতুন লেখক সৃষ্টিতেও অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখছে।’
সাংবাদিক শামীম আল আমীন এবং উর্বি হাই’র উপস্থাপনায় উদ্বোধনী পর্বে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন, কলকাতা বইমেলার সভাপতি সুধাংশ শেখর দে, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এদিকে মেলার আয়োজন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এবারের মেলায় নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষ দিন থাকছে মেলার শেষ দিন সোমবার।
লেখক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মেলার আহ্বায়ক ড. আব্দুর নূরসহ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. নূরুরন্নবী, সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার, নিনি ওয়াহিদ, লুৎফুর রহমান রিটন, সঙ্গীত শিল্পী পবন দাস, ঢাকার অনন্যা প্রকাশনীর কর্ণধার মনিরুল হক, লেখক ফাহিম রেজা নূর, নতুন প্রজন্মের সেমন্তী ওয়াহেদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, এবারের বইমেলায় দেশ ও প্রবাসের ২৫টি প্রকাশনা সংস্থা ছাড়াও শতাধিক লেখক-সাহিত্যিক-কবি-প্রাবন্ধিক যোগ দিয়েছেন বলে মেলার কর্মকর্তারা জানান। মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা দুই হাজার। মেলায় বাংলাদেশ, কলকাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিল্পীরা বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন। রয়েছে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে ‘শিশু-কিশোর যুব উৎসব’।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
প্রবাস
ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের হালনাগাদ ‘ভয়াবহ’ তথ্য
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
নিউ ইয়র্কে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জামাইকা মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
৩ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
ফ্লোরিডা ট্র্যাজেডি: নিহত লিমন নিখোঁজ বৃষ্টিকে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন
১ সপ্তাহ আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোকের ছায়া
১ সপ্তাহ আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি