আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
নিউ ইয়র্কে নির্বাচন বন্ধে ৪ কোটি সাড়ে ৩২ লাখ টাকা গচ্ছা বাংলাদেশ সোসাইটির
বাংলাদেশ সোসাইটির ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৫শত টাকা
আবু সাবেত: শুধুমাত্র একজন ভোটারের সদস্যপদ না দেওয়ায় আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ হয়েছে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। এতে বাংলাদেশ সোসাইটির ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৫শত টাকা বা মার্কিন মুদ্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনিজীবির সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন আয়োজন, ভোট গ্রহণ, ভোটকেন্দ্র খোলা, ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রত্যয়নের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট। সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যান ও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না পাওয়ার বিরোধে ওসমান এ. চৌধুরীর আবেদনে ২৩ অক্টোবর বিচারপতি শেরি এ. বাগস (Chereé A. Buggs) জরুরি বিচারক হিসেবে এ আদেশে স্বাক্ষর করেন।
মামলার ইনডেক্স নম্বর ৭৩২১৭৪/২০২৬। এনওয়াইএসসিইএফ-এ দাখিল করা ২৫ নম্বর নথির আদেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় লং আইল্যান্ড সিটির ২৫-১০ কোর্ট স্কয়ারে আদালতের পার্ট ২৩-এর ১৪০ নম্বর কক্ষে শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলায় বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, সভাপতি এস. এম. এ. রহমান ওরফে ‘সালিম’, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মাফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাশেরকে বিবাদী করা হয়েছে। তাঁদের কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার, ট্রাস্টি, প্রতিনিধি এবং তাঁদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রতিও আদেশের বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।
নির্বাচন স্থগিত রাখার পাশাপাশি, ওসমানের সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কার্যকরী কমিটির দেওয়া ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখের চিঠি কার্যকর করা থেকেও বিবাদীদের সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মূল ভোটার নিবন্ধন রেকর্ড, সদস্যপদের আবেদন, চাঁদা পরিশোধসংক্রান্ত নথি, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যালট ধ্বংস না করে পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী টামারা হ্যারিসের মাধ্যমে করা পিটিশন ও অভিযোগপত্রে ওসমান দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্দেশ্যে তিনি ২০ ডলার ফিসহ সাধারণ সদস্যপদের আবেদন করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর ২৮ আগস্টের চিঠিতে আবেদন ও অর্থ গ্রহণের বিষয়টি ২৬১৬০৭ নম্বর সমন্বিত রসিদের অধীনে স্বীকার করা হয়। তবে একই চিঠিতে সোসাইটিসংশ্লিষ্ট বিচারাধীন মামলা এবং সংবিধানের নবম অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে তাঁর আবেদন সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
ওসমানের অভিযোগ, আগের অনিয়ম নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তাঁকে সদস্যপদ ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যানকে স্থায়ী বাধা নয় বলে উল্লেখ করাও তাঁকে এবারের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কৌশল বলে পিটিশনে দাবি করা হয়েছে। এগুলো আবেদনকারীর অভিযোগ; সাময়িক আদেশে আদালত প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘোষণা করেননি।
পিটিশনে ওসমান নিজেকে সোসাইটির সাবেক নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ২০০৯–২০১০ মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৪ সালে শুরু হওয়া মেয়াদে সহকারী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে নিয়মিত সদস্য হিসেবে স্বীকৃত থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিরোধের পটভূমি তুলে ধরে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অতিরিক্ত মনোনয়ন ফি, আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করিয়ে সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যের সদস্যপদের চাঁদা কর্মকর্তাদের অর্থে পরিশোধের অভিযোগ করেছেন। পিটিশনে এক রাতে ২৭ হাজার ভুয়া সদস্য যুক্ত করার দাবিও রয়েছে। সভাপতি পদের মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ৫০০ ডলার, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে ৪ হাজার ৫০০ ডলার এবং সহসভাপতি পদে ৪ হাজার ডলার নির্ধারণের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এতে সাধারণ সদস্যদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছিল। এসব ঐতিহাসিক অভিযোগের সত্যতা বর্তমান সাময়িক আদেশে নির্ধারণ করা হয়নি।
অভ্যন্তরীণ প্রতিকারের বিষয়ে ওসমানের দাবি, ২০১৮ সালে আদালতে যাওয়ার আগে তিনি কার্যকরী কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত, জবাব বা সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তিনি মামলা করেন, যার ইনডেক্স নম্বর ৭৮৫০/২০১৮। বর্তমান পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের পর তাঁর আইনজীবী ২ সেপ্টেম্বর পুনর্বহালের দাবি জানান এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগে সংশ্লিষ্ট নোটিশ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, তাতেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
বর্তমান মামলাটি সিপিএলআরের আর্টিকেল ৭৮-এর অধীনে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আবেদন এবং ঘোষণামূলক ও নিষেধাজ্ঞামূলক প্রতিকার চেয়ে করা যৌথ কার্যধারা। ওসমান সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল, নবম অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর ধারা অকার্যকর ঘোষণা, তাঁকে নিয়মিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বা পুনর্বহাল এবং সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা প্রত্যয়ন চেয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ওই ধারার মাধ্যমে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
তবে আদালত এখনই তাঁকে সভাপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেননি, বিতর্কিত ধারা বাতিল করেননি কিংবা সব অভিযোগের ওপর চূড়ান্ত রায় দেননি। বিবাদীদের কারণ দর্শানোর সুযোগ রেখে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিষ্পত্তি পর্যন্ত নির্দিষ্ট বিষয়ে সাময়িক বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
আদালত ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আদেশ ও সমর্থনকারী কাগজপত্র বিবাদীদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অথবা সার্টিফায়েড মেইলে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আলোচিত অভিযোগগুলো পিটিশনের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত; পর্যালোচিত আদেশ ও পিটিশনের পাঠে বিবাদীদের বিস্তারিত জবাব অন্তর্ভুক্ত নেই।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে আদালতে আইনজীবীর চিঠি
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে আদালতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায় ম্যারিল্যান্ড বিএনপি
সঙ্গীত একাডেমি