সরকারি অসদাচরণের অভিযোগ
নিউ ইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় অভিযোগ
নোমান সাবিত: কুইন্সের জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ ঘোষণা করেছেন, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা মিগুয়েল ভ্যানব্রাকলির বিরুদ্ধে শপথের অধীনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং অস্ত্র রাখার একটি মামলায় নথি জাল করার অভিযোগে পারজুরি (মিথ্যা সাক্ষ্য), ভৌত প্রমাণে কারসাজি, সরকারি অসদাচরণসহ একাধিক অপরাধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার দেওয়া সাক্ষ্য তার বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ভিডিওর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভ্যানব্রাকলি ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্ক পুলিশের একটি দলের অংশ ছিলেন, যারা আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করতে কেমব্রিয়া হাইটসের একটি বাসভবনে অভিযান চালায়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তল্লাশির লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্রের যোগসূত্র দেখাতে প্রমাণ রোপণ করেন।
জেলা অ্যাটর্নি ক্যাটজ বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তা আইন রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন, কিন্তু তার বদলে তিনি অস্ত্র রাখার একটি মামলায় প্রমাণ রোপণ করেছেন, শপথ ভঙ্গ করে মিথ্যা বলেছেন এবং সরকারি নথিতে ভ্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। অভিযুক্তের কথিত কর্মকাণ্ডের ফলে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুতর অস্ত্র মামলার অভিযোগ ঝুলে ছিল। প্রমাণের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পর অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই আমরা অস্ত্র রাখার মামলাটি খারিজ করি। বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারজুরি, প্রমাণে কারসাজি ও সরকারি অসদাচরণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বেল হারবারের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী ভ্যানব্রাকলিকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পারজুরি, প্রথম ডিগ্রির ব্যবসায়িক নথি জাল করার দুটি অভিযোগ, প্রথম ডিগ্রির মিথ্যা নথি দাখিলের দুটি অভিযোগ, ভৌত প্রমাণে কারসাজি, সরকারি অসদাচরণ এবং দণ্ডনীয় মিথ্যা লিখিত বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লেই চেং অভিযুক্তকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিএ ক্যাটজ জানান, অভিযোগপত্র ও তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর ভ্যানব্রাকলি কেমব্রিয়া হাইটসের একটি বাড়িতে বিছানার নিচে তালাবদ্ধ সেফের ভেতর থেকে একটি লোড করা .৩৮-ক্যালিবার স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন রিভলভার উদ্ধার করেন। বাড়ির মালিক দাবি করেন, বন্দুকটি তার এবং তার বাগদত্তার নয়, যিনি তল্লাশি পরোয়ানার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।
ভ্যানব্রাকলি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেন এবং একটি ফৌজদারি অভিযোগপত্র ও নিউ ইয়র্ক পুলিশের সম্পত্তি ভাউচারে উল্লেখ করেন যে, তিনি তালাবদ্ধ সেফ থেকে বন্দুকটির পাশাপাশি বাগদত্তার নামে থাকা নিউ ইয়র্ক স্টেটের একটি বেনিফিট কার্ডও উদ্ধার করেছেন। ওই বন্দুকটিই বাড়িতে পাওয়া একমাত্র আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এরপর বাড়ির মালিকের বাগদত্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অস্ত্র রাখাসহ অন্যান্য অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
তবে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভ্যানব্রাকলি বাড়ির লিভিংরুমে থাকা একটি জুতার বাক্স খালি করেন, সেখান থেকে বেনিফিট কার্ডটি নিয়ে বন্দুক যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেই সেফের ভেতর রেখে দেন।
এই কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ডিএ ক্যাটজের দপ্তর অস্ত্র রাখার মামলাটি খারিজ করার আবেদন করে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির পাবলিক করাপশন ব্যুরোর সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ইয়ং কিম ব্যুরো চিফ ব্র্যাডলি কিংয়ের তত্ত্বাবধানে এবং তদন্ত বিভাগে ভারপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ সহকারী জেলা অ্যাটর্নি শন ক্লার্কের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি