৪ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কের নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠন স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
নিউ ইয়র্কের নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠন স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার নিউইয়র্কের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে একটি নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একটি রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারত।
বিতর্কের কেন্দ্র ছিল নিউ ইয়র্কের ১১তম কংগ্রেসনাল জেলা, যার মধ্যে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং ব্রুকলিনের একটি ছোট অংশ রয়েছে। বর্তমানে আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে। তবে গত ২১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক রায় দেন যে বর্তমান সীমানা রাজ্যের সংবিধান লঙ্ঘন করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো ভোটারদের ভোটের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে ওই জেলার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য নিকোল ম্যালিওটাকিস এবং রাজ্য নির্বাচন বোর্ডের রিপাবলিকান সহ-সভাপতি দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তারা দাবি করেন, প্রস্তাবিত নতুন মানচিত্রটি “বর্ণভিত্তিক গেরিম্যান্ডারিং” বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বর্ণভিত্তিক সীমানা নির্ধারণের উদাহরণ।
নিউইয়র্কে কংগ্রেস নির্বাচনের প্রক্রিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল, যেদিন থেকে প্রার্থীরা ব্যালটে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এই বছরের টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো মধ্যমেয়াদি পুনরায় সীমানা নির্ধারণের বিতর্কগুলোর মতোই ট্রাম্প প্রশাসন রিপাবলিকানদের অবস্থানকে সমর্থন করে।
অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক রাজ্য ও ভোটারদের একটি অংশ যুক্তি দেয়, বিষয়টি এখনই সুপ্রিম কোর্টে নেওয়া খুব তাড়াহুড়া হয়ে গেছে। কারণ রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত এখনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি। তাদের মতে, বিষয়টি ফেডারেল আদালতের নয়, বরং নিউইয়র্কের নিজস্ব আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা মাত্র ১০১ শব্দের একটি আদেশে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানান। আদেশে যুক্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি; শুধু বলা হয়েছে, মামলাটি নিউইয়র্কের আপিল আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান এবং কেতনজি ব্রাউন জ্যাকসন। সোটোমেয়র তার ভিন্নমতে বলেন, যদি রাজ্যের ট্রায়াল কোর্টের অচূড়ান্ত সিদ্ধান্তও সুপ্রিম কোর্টে আনা যায়, তাহলে 'যেকোনো আদালতের যেকোনো সিদ্ধান্তই এখন এই আদালতে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।'
তিনি আরও সতর্ক করেন, এভাবে হস্তক্ষেপ করলে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রায় সব বিরোধেই সুপ্রিম কোর্টকে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন অনেক রাজ্যই তাদের কংগ্রেসনাল মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ করছে।
চলতি বছর টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করে নতুন মানচিত্র কার্যকর থাকতে দিয়েছিল। তবে নিউইয়র্কের ক্ষেত্রে আদালতের এই পদক্ষেপ সেই পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে লুইজিয়ানার নির্বাচনী মানচিত্র নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ঝুলে আছে। সেখানে দ্বিতীয় একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারসংখ্যার জেলা তৈরি করা সংবিধানসম্মত কি না—তা নিয়েই বিতর্ক চলছে।
মামলাটি গত দুই মেয়াদ ধরে আদালতে ঝুলে আছে। সর্বশেষ শুনানিতে আদালত নতুন একটি প্রশ্ন যুক্ত করেছে—রাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যালঘু জেলা তৈরি করলে তা কি সংবিধানের চতুর্দশ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর ভোটাধিকার সুরক্ষার বিধান লঙ্ঘন করে কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক শুনানির ধরণ দেখে মনে হচ্ছে আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনকে আরও সীমিত করার দিকে এগোতে পারে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি