৫ মে ২০২৬

৩৩ বছর পর

নিউ ইয়র্কের কিশোরী হত্যা মামলায় ভার্জিনিয়ার যৌন অপরাধী দোষী সাব্যস্ত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ বিকাল
নিউ ইয়র্কের কিশোরী হত্যা মামলায় ভার্জিনিয়ার যৌন অপরাধী দোষী সাব্যস্ত

হত্যার শিকার নাদিন স্লেড ও ঘাতক জেরি লুইস


ছাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউ ইয়র্কের ফার রকঅ্যাওয়ে এলাকার জেরি লুইস ১৯৯২ সালের মে মাসে ১৫ বছর বয়সী নাদিন স্লেডকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ফার রকঅ্যাওয়ের একটি বহুতল বাড়িতে, পাশের আরেকটি ইউনিটের সঙ্গে ভাগ করা বাথরুমে নাদিনের মরদেহ পাওয়া যায়। কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজের অফিস সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
জেলা অ্যাটর্নির কোল্ড কেস ইউনিট এবং এনওয়াইপিডির কোল্ড কেস স্কোয়াডের অনুরোধে সংরক্ষিত ডিএনএ প্রমাণ পুনরায় পরীক্ষা করা হলে ২০২৩ সালের মে মাসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএ ক্যাটজ বলেন,প্রায় ৩৪ বছর ধরে নাদিন স্লেডের পরিবার কোনো উত্তর বা ন্যায়বিচার ছাড়াই শোক করে এসেছে। আমার কোল্ড কেস ইউনিট ও এনওয়াইপিডির কোল্ড কেস স্কোয়াডের নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৯২ সালে এই তরুণীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যাকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এখন সে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। সময়ের ব্যবধান কোনো সহিংস অপরাধীকে রক্ষা করবে না, এবং আমরা যত সময়ই লাগুক ন্যায়বিচারের সাধনা থামাব না।
ভার্জিনিয়ার শস্‌ভিলের বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী জেরি লুইসকে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেনেথ হোল্ডারের আদালতে জুরি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।
মামলার শুনানি শুরু হয় ১২ জানুয়ারি এবং আজ সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় আলোচনার পর রায় দেয়। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তার সাজা ঘোষণা করা হবে এবং তার ২৫ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিএ ক্যাটজ জানান, অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ৭ মে সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগীর মা স্কুল বাসচালকের কাজ থেকে বাসায় ফিরে বাথরুমে তার ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নাদিনের গলায় শক্ত করে একটি ব্রা বাঁধা ছিল। বাথরুমের সিঙ্কে পাওয়া একটি ক্যান ওপেনার ব্যবহার করে ব্রার ফিতা আরও শক্ত করে পেঁচানো হয়েছিল।
হত্যার সময় তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নাদিনকে মৃত পাওয়ার আগের রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও কয়েকজনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বাসার পাশের ইউনিটে উপস্থিত ছিলেন। দুই ইউনিটের মধ্যে বাথরুমটি ছিল যৌথভাবে ব্যবহৃত।
অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগী বা তার মায়ের আগে কোনো পরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউ ইয়র্ক সিটি অফিস অব চিফ মেডিক্যাল এক্সামিনারের (ওএমসিই) ময়নাতদন্তে নির্ধারিত হয় যে, নাদিনের মৃত্যু হয়েছে দড়ি বা ফিতা দিয়ে শ্বাসরোধের ফলে সৃষ্ট শ্বাসকষ্টে। তার শরীরে আরও আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির ইঙ্গিত দেয়। ভুক্তভোগীর নখের নিচ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
২০২২ সালে ডিএ ক্যাটজের কোল্ড কেস ইউনিট এবং এনওয়াইপিডি কোল্ড কেস স্কোয়াড ওএমসিই-এর কাছে সংরক্ষিত নখের নমুনা পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষার অনুরোধ জানায়। সেখান থেকে একটি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হয়, যা জেরি লুইসের সঙ্গে মিলে যায়। লুইস আগে থেকেই একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী ছিলেন।
২০২৩ সালের মার্চে প্যারোল ভিজিটের সময় গোয়েন্দারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর ২০২৩ সালের ১ মে তাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ক্যারেন এল. রস, যিনি ডিএ অফিসের হোমিসাইড ব্যুরোর ডেপুটি ব্যুরো চিফ এবং কোল্ড কেস ইউনিটের প্রধান। তাকে সহায়তা করেন সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জেনি এভানজেলিস্তা। পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন ব্যুরো চিফ জন কোসিনস্কি এবং মেজর ক্রাইমস বিভাগের নির্বাহী সহকারী জেলা অ্যাটর্নি শন ক্লার্ক।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি