বিনা ভাড়ায় বসবাসের পর
নিউ ইয়র্কার হোটেলের মালিকানা দাবিদার জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার
নিউ ইয়র্কার হোটেল
ইমা এলিস: নিউ ইয়র্ক সিটির এক ব্যক্তি, যিনি নিউ ইয়র্কার হোটেলের মালিকানা দাবি করার চেষ্টা করেছিলেন, জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক ম্যানহাটন হোটেলটিতে বছরের পর বছর বিনা ভাড়ায় বসবাস নিয়ে দীর্ঘ আইনি নাটকের অবসান ঘটল।
মিকি বারেটো বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জানান, তিনি হোটেলের মালিকানা নেওয়ার প্রচেষ্টায় সম্পত্তির নথি জাল করেছিলেন। কাগজে-কলমে তার সেই প্রচেষ্টা আংশিক সফলও হয়েছিল।
বারেটোর ভাষ্যমতে, তিনি ও তার সঙ্গী ২০১৮ সালে মাত্র ২০০ ডলার দিয়ে এক রাতের জন্য আর্ট ডেকো ধাঁচের এই বহুতল হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর তিনি একটি লিজ দাবি করেন এবং যুক্তি দেন, এক রাতের অবস্থানই তাকে শহরের একটি আবাসন আইনের অধীনে সুরক্ষা দেয়, যা ১৯৬৯ সালের আগে নির্মিত ভবনের একক কক্ষবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
হোটেল কর্তৃপক্ষ তার দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তিনি আবাসন আদালতে মামলা করেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে হোটেল পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত বারেটোকে কক্ষটির 'দখল' প্রদান করে।
তবে ম্যানহাটনের প্রসিকিউটররা জানান, বারেটো এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। তিনি একটি জাল দলিল তৈরি করে শহরের ওয়েবসাইটে আপলোড করেন, যাতে পুরো ভবনের মালিকানা নিজের নামে স্থানান্তরের দাবি করা হয়।
বর্তমানে হোটেলটির মালিকানা রয়েছে ‘হলি স্পিরিট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ইউনিফিকেশন অব ওয়ার্ল্ড খ্রিস্টিয়ানিটি’র কাছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার স্বঘোষিত মসীহা রেভারেন্ড সান মিউং মুন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ বিষয়ে সংগঠনটির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসিকিউটরদের মতে, বারেটো পরে হোটেলের এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করেন এবং হোটেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তার কাছে হস্তান্তরের দাবিও জানান।
২০২৪ সালে তাকে হোটেল থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং একাধিক গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বিচারের অযোগ্য ঘোষণা করে মানসিক চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দোষ স্বীকারের অংশ হিসেবে বারেটোকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা তিনি ইতোমধ্যে ভোগ করেছেন—এছাড়া পাঁচ বছরের প্রবেশনও দেওয়া হয়েছে বলে ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান। বারেটোর আইনজীবী ব্রায়ান হাচিনসন তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
এর আগে বারেটো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন, তার কক্ষের “দখল” দেওয়ার মাধ্যমে বিচারক পরোক্ষভাবে পুরো ভবনই তাকে দিয়েছেন, কারণ ভবনটি কখনো পৃথকভাবে বিভক্ত করা হয়নি।
তিনি তখন বলেন, আমি কখনো জালিয়াতি করার উদ্দেশ্য রাখিনি। আমি বিশ্বাস করি না যে আমি কোনো জালিয়াতি করেছি। এবং আমি এ থেকে এক পয়সাও উপার্জন করিনি।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি