৫ মে ২০২৬

নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন

ভারতের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে (ডানে) ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (বাঁয়ে)

বাংলাপ্রেস ডেস্ক : বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়, সে ব্যাপারে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিচ্ছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক পাঠানো যায় কিনা, বিবেচনা করা হচ্ছে সেটাও। সপ্তাহ তিনেক আগেই বাংলাদেশ থেকে ২৩ জন কূটনীতিকের একটি বড় মাপের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন সফর করে গেছেন। তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ ‘ব্রিফিং’।

এরপর গত সপ্তাহেই ভারতের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দিল্লিতে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, একটা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ— আর সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বিগত সাত দশক ধরে ভারত যে প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

সূত্রটি আরও জানায়, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অর্জিত সেই সুনাম, আর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসলই আমরা প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছি।

বস্তুত, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করায় বাংলাদেশে সেবারের ভোট যে অন্তর্জাতিক স্তরে কিছুটা বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারতের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার হাতে উপহার তুলে দিচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবারে যদিও বিএনপি তাদের জোট শরিকদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে শামিল হচ্ছে। তার পরেও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সারা বিশ্বের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য চেহারা দিতে বাংলাদেশ চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছে না। আর ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ‘অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া’ও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশের অন্তত ২৩ জন কূটনীতিক দিল্লির অশোকা রোডে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর পরিদর্শন করেন।

সে দিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ ব্রিফিং সেশনেরও আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের নানা দিক ও গণমাধ্যমে তা তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর ঠিক তিন দিনের মাথায়, ২ ডিসেম্বর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুনীল অরোরা।

এরপর দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গত বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সুনীল অরোরার সঙ্গে দেখা করতে যান। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রধানের হাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি স্মারক উপহারও তুলে দেন। যদিও এটাকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলেই দুপক্ষ বর্ণনা করেছে। তার পরেও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়েও তাদের দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ভারতে নতুন নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনও প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রদূত তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন— এমন ঘটনাও বেশ বিরল। সে দিক থেকেও হাই কমিশনার আলীর সঙ্গে সুনীল অরোরার বৈঠক ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারতের সরকারি অবস্থান এবারে অনেকটাই ভিন্ন— দিল্লি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্বাচন নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কার বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনকে আমরা পুরোপুরি সে দেশের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই মনে করি এবং তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকতে চাই।’ এই পটভূমিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনও চাইছে না বাংলাদেশকে ‘পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে কোনও রকমের ঢাকঢোল পেটাতে। কারণ, সে ক্ষেত্রে সেটাকে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। এই পটভূমিতে ভারত কি বাংলাদেশের নির্বাচনে সরকারি স্তর থেকে কোনও পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারে?

ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি এখন বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক হিসেবে বিভিন্ন দেশে ভোট দেখতে যান। খুব সম্প্রতি তিনি দেখে এসেছেন পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনও। সেই মি. কুরেশি প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভোট দেখতে যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যাবেন, তার মধ্যে খুব সম্ভবত ভারতীয়রাও থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু ভারত সরকার বা ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনও পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা, যতদূর জানি সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

বাংলাপ্রেস/এফএস

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি