৬ মে ২০২৬

নেই তাপদাহ, লোডশেডিং কমায় কিছুটা স্বস্তি জনমনে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
নেই তাপদাহ, লোডশেডিং কমায় কিছুটা স্বস্তি জনমনে
বাংলাপ্রেস ডেস্ক : গত দুই সপ্তাহ লোডশেডিং এবং তীব্র গরমে দেশের মানুষের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে সব জায়গায় পর্যায়ক্রমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সাথে কমে গেছে গরমের তাপমাত্রা। ফলে দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহ আর নেই। এরসাথে কমেছে লোডশেডিং। এরফলে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের সার্বিক জীবনে। তাপপ্রবাহ কমায় কমেছে বিদ্যুতের চাহিদা। অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে যোগ হয়েছে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ। রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুই বিতরণ কম্পানিকে শনিবারও লোডশেডিং করতে হয়নি। এতে রাজধানীর মানুষ লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চালে লোডশেডিং পুরোপুরিভাবে না কমলেও আগের তুলানায় অনেকটাই পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে বলেও গ্রাহকরা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ জুন) বিকেল ৫টার সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট। তার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট। এই সময় লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। যেখানে মাত্র তিন দিন আগেও দিনের এই সময়ে ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল। প্রায় টানা দুই সপ্তাহ তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিং অতিষ্ট করে তুলেছিল জনজীবন। মধ্যরাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছিল মানুষ। এতে অনেকে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। তার পরও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চাহিদানুযায়ী উৎপাদন বাড়াতে পারছিল না। এতে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই লোডশেডিং করতে হয় দেশের ছয়টি বিতরণ কম্পানিকে। রাজধানী ঢাকায় গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হলেও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছিল। এর মাঝে বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টিতে ঢাকার তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। কয়েক দিন ধরে যা ছিল ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানি গ্রুপের চালু প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। গত বুধবার থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো হচ্ছে। দুই ইউনিট থেকে এখন এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আসছে। তবে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হতে আরও কিছু সময় লাগবে। এমাসের শেষের দিকে চাহিদা অনুযায়ি পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলেও এসময় উল্লেখ করেন তারা।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি