৪ মে ২০২৬

নবীনগরে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
নবীনগরে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

মোহাম্মদ জাকারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ভয় ভীতি প্রদর্শন ও মৌখিক অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিরব ভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম সহ সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দাসকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বড় ভাই আব্বাস উদ্দিন।

মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দাস দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় সুকৌশলে নিরীহ ও সুন্দরী ছাত্রীদের ভাল নাম্বার পাইয়ে দেওয়া,এ প্লাস এনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল এবং যদি এই অপকর্ম লোক মুখে প্রকাশ করে তাহলে পরিক্ষায় ফেল করিয়ে দেবার হুমকি দেয়।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী একাধিক ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামকে মৌখিক ভাবে একাধিক বার প্রতীকার চেয়ে কোনো সমাধান না পায়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।

দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া প্রদীপ দাসের এরূপ কর্মকাণ্ডের বিচার না পেয়ে দিনকে দিন মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে গত ৭ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনা জানিয়ে এর প্রতীকার দাবি করেন। তখন স্থানীয় এই সাংসদ ভুক্তভোগীদের সব অভিযোগ মনযোগ দিয়ে শুনে সংশ্লিষ্ট প্রসাশনকে তদন্ত করে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ও তাদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ঘটনার প্রশ্রয়দাতা হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানায়।

মামলার বাদী জনৈক ছাত্রীর বড় ভাই আব্বাস উদ্দিন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,যৌন হয়রানির শিকার একাধিক ছাত্রী বারবার প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতীকার না পাওয়ায় আমি ছাত্রীদের পক্ষে এর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে অবশেষে থানায় মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দাসকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি‌

মামলার বিবাদী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোনে যোগাযোগ করে না পেলেও ও সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দাস বলেন, আমি কখনো এমন কাজ করতে পারি না ওরা আমার সন্তানের মত। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট।

বিদ্যালয়টির গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহেল জানান, আমি আজ পর্যন্ত এসব ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ পায়নি তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমরা পরিচালনা কমিটি তাৎক্ষণিক সভা আহবান করি এবং অভিযুক্তদের কে আগামী সাতদিনের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সত্যতা পেলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি