বুরকিনা ফাসোতে
নাবালিকাদের ধর্ষণ:সাবেক মার্কিন দূতাবাস কর্মচারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা ফোদে সিতাফা মারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
আবু সাবেত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে একটি ফেডারেল আদালত বুরকিনা ফাসোতে দুই নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে সাবেক মার্কিন দূতাবাস কর্মচারী ফোদে সিতাফা মারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ২০২২ ও ২০২৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে-এর রাজধানী ওয়াগাডুগু-তে অবস্থানকালে দুই কিশোরীকে একাধিকবার জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। সে সময় তিনি ওয়াগাডুগুতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস-এ কর্মরত ছিলেন।
মেরিল্যান্ডের ফেডারেল জুরি আদালতে দুই সপ্তাহব্যাপী বিচার শেষে তাকে চারটি গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগসহ নাবালিকাকে প্রলোভন দেখানো এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন দুভা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার সময় দুইজন অত্যন্ত অসহায় শিশুকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন করেছে। তিনি বলেন, এই অপরাধ জঘন্য। যদিও কোনো শাস্তিই তাদের ক্ষতি পূরণ করতে পারে না, তবে আজকের রায় দেখিয়ে দেয় যে দেশে বা বিদেশে—যেখানেই শিশু নির্যাতন হোক মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এর কঠোর শাস্তি রয়েছে।
মেরিল্যান্ড জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট যারা শিশুদের শিকার বানায় তাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই নিরপরাধ কিশোরীকে লক্ষ্য করে নির্যাতন করেছে, আর এখন সে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা পরিষেবা-এর কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের সততা রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
আদালতের নথি ও বিচারপ্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, মারা একাধিকবার তার দূতাবাস-ভাড়াকৃত বাসভবনে দুই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বাসভবনটি মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় সেটি মার্কিন আইনের আওতায় পড়ে। ভুক্তভোগী দুই কিশোরী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত এবং তাদের বাড়িতে পানীয় জলের সুবিধাও ছিল না।
মারা ওই পরিবারের দুর্বল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় এক বছর ধরে তাদের যৌন নির্যাতন করেন। তখন ভুক্তভোগীদের বয়স ছিল মাত্র ১৩ ও ১৫ বছর। তিনি তাদের মায়ের গুরুতর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সাহায্যের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন। স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে কিশোরীদের ডেকে আনার জন্য তিনি তাদের মোবাইল ফোনও দেন। এছাড়া এক ভুক্তভোগীকে যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠানো এবং নিজের অপরাধ গোপন করতে গৃহপরিচারিকাকে মিথ্যা বলার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
এই মামলার তদন্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা বিভাগ, ইউএসএআইডির মহাপরিদর্শক কার্যালয়, এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস একযোগে কাজ করে। বুরকিনা ফাসোর কর্তৃপক্ষও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
মামলাটি মার্কিন বিচার বিভাগের শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধ কর্মসূচি প্রকল্প নিরাপদ শৈশব -এর অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়, যার লক্ষ্য শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দূতাবাসের জন্য ভাড়া নেওয়া বাসভবনে দুই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করেন। মেয়েদের পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত এবং তাদের মায়ের গুরুতর অসুস্থতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
মার্কিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, সরকারি দায়িত্বে বিদেশে অবস্থান করেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভয়াবহ অপরাধ করেছেন।
তদন্তে সহযোগিতা করেছে মার্কিন কূটনৈতিক নিরাপত্তা সংস্থা, মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা -এর ইন্সপেক্টর জেনারেল দপ্তর এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থা।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি