৫ মে ২০২৬

মর্মান্তিক

মিনেসোটায় ৫ বছরের শিশুসহ বাবাকে আটক করল আইসিই

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
মিনেসোটায় ৫ বছরের শিশুসহ বাবাকে আটক করল আইসিই

ইমা এলিস: মঙ্গলবার মিনেসোটায় প্রিস্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা এক ৫ বছর বয়সী শিশু ও তার বাবাকে আটক করেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে জানান, লিয়াম কোনেহো রামোস ও তার বাবার কাছে মুখোশধারী কর্মকর্তারা তাদের ড্রাইভওয়েতেই যান।
স্টেনভিক বলেন, বাড়ির আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক বাইরে ছিলেন এবং অনুরোধ করেছিলেন যেন ছোট শিশুটির দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। বরং এক কর্মকর্তা শিশুটিকে তখনও চালু থাকা গাড়ি থেকে নামিয়ে দরজার কাছে নিয়ে যান এবং তাকে দরজায় নক করতে বলেন, ভেতরে আর কেউ আছে কি না তা দেখতে—মূলত ৫ বছরের একটি শিশুকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, শিশুটির বাবা আদ্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেহো আরিয়াস কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে দ্রুতই আটক হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নীতি অনুযায়ী, আইস সাধারণত শিশুকে পিতামাতার মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়ার কথা।
ডিএইচএস মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন আরিয়াসকে আটক করার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি ইকুয়েডরের নাগরিক এবং বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া পেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা “কোনো শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করেননি।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “কর্মকর্তারা গাড়ির চালক আদ্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেহো আরিয়াসের কাছে গেলে তিনি দৌড়ে পালান—নিজের শিশুকে ফেলে রেখে। শিশুটির নিরাপত্তার জন্য এক আইস কর্মকর্তা শিশুটির সঙ্গে ছিলেন, আর অন্যরা কোনেহো আরিয়াসকে আটক করেন।”
মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামোসের ভাই—যে একটি মিডল স্কুলের শিক্ষার্থী—প্রায় ২০ মিনিট পর বাড়ি ফিরে শুধু মাকে পান। কর্মকর্তারা রামোস ও তার বাবাকে নিয়ে যান, এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা এখন টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন।
স্টেনভিক মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে বলেন, রামোসের পরিবারের একটি “সক্রিয় আশ্রয় মামলা” রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কার আদেশ নেই। তিনি বলেন, আমি নিজ চোখে তাদের আইনি কাগজপত্র দেখেছি।
রামোস পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকোশ মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে বলেন, তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে যা করতে বলা হয়েছে, তারা তা-ই করেছে। তাই এটি নিছক… নিষ্ঠুরতা।
প্রোকোশ বলেন, রামোসকে আটক করা 'সম্ভবত অবৈধ নয়, কিন্তু  কোনো কিছু আইনসম্মত হলেই তা নৈতিক হয় না। হ্যাঁ, তাদের হয়তো ৫ বছরের একটি শিশুকে আটক করার আইনি ক্ষমতা আছে, কিন্তু কেন?
বৃহস্পতিবার মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়াল্‌জ (ডেমোক্র্যাট) ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং অনলাইনে স্টার ট্রিবিউনের প্রতিবেদন শেয়ার করেন।
এক্সে তিনি লেখেন, মিনেসোটাবাসী নিরাপত্তা চায়। তারা স্বাধীনতা চায়। তারা আমাদের শিশুদের জন্য সর্বোত্তমটা চায়। মুখোশধারী এজেন্টরা রাস্তা থেকে প্রিস্কুলের শিশুকে তুলে নিয়ে টেক্সাসের আটক কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে—এগুলো কোনো লক্ষ্যই পূরণ করে না। এই প্রতিশোধের অভিযান বন্ধ হতেই হবে। 
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, চলতি মাসে কলাম্বিয়া হাইটসের চারজন শিক্ষার্থীকে আইস আটক করেছে। মঙ্গলবারই মুখোশধারী কর্মকর্তারা স্কুলে যাওয়ার পথে গাড়ি চালানো ১৭ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীকে আটক করেন—সঙ্গে কোনো অভিভাবক ছিলেন না। গত সপ্তাহে আরেক ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও তার মাকে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে 'জোর করে ঢুকে' আটক করা হয় বলে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে।
এ মাসের শুরুতে সংস্থাটি এক চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী ছাত্রী ও তার মাকেও আটক করে। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বরাতে পোস্ট জানায়, ওই ছাত্রী বাবাকে ফোন করে জানায় যে আইস কর্মকর্তারা তাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাবা স্কুলে গিয়ে দেখেন, তার মেয়ে ও স্ত্রীকে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইস কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নামে এক নারী নিহত হওয়ার পর মিনেসোটার স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য নেতারা ফেডারেল অভিবাসন অভিযান কমানোর আহ্বান জানান। ওই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে দাবি করেন, ফেডারেল এজেন্টদের শহর ছাড়তে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ওই গুলির ঘটনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার পর ক্ষোভ আরও বাড়ে। প্রশাসন অভিযোগ করে, গুড তার এসইউভি দিয়ে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে 'ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদে' অভিযুক্ত করে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এক ফেডারেল বিচারক মিনেসোটায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বন্ধের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার একটি ফেডারেল আপিল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
বিচার বিভাগ মঙ্গলবার মেয়র ফ্রে ও গভর্নর ওয়াল্‌জের বিরুদ্ধে সমন জারি করে, অভিযোগ করে যে তারা অভিবাসন আইনপ্রয়োগ তদন্তে বাধা দিয়েছেন। গভর্নর একে 'দলীয় বিভ্রান্তি” বলে আখ্যা দেন, আর ফ্রে বলেন, তিনি “নিজের নির্বাচিত দায়িত্ব পালন—কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখা ও আমাদের মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানো—চালিয়ে যাবেন।'  

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি