মানসিক সক্ষমতা নিয়ে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ৯৮ বছর বয়সী ফেডারেল বিচারকের
ফেডারেল আপিল বিচারক পলিন নিউম্যান
ইমা এলিস: মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সহকর্মী বিচারকদের উদ্বেগের কারণে দায়িত্ব থেকে স্থগিত হওয়া ৯৮ বছর বয়সী ফেডারেল আপিল বিচারক পলিন নিউম্যান আবার মামলা শুনানির অধিকার ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন বলে বৃহস্পতিবার তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ফেডারেল সার্কিটের অন্যান্য বিচারকরা নিউম্যানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন কোনো মামলা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখেন। নিউম্যান এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে দাবি করেছেন, এটি অসাংবিধানিক।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় বয়সজনিত বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হয় তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
নিউম্যান দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালনের অযোগ্য। তিনি সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেছেন এমন একটি রায় বাতিল করতে, যার ফলে তার স্থগিতাদেশের বিষয়ে বিচারিক পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি।
তার আবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য বিচারকরা এখন দেখছেন যে প্রধান বিচারকের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকলে তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটতে পারে।
এ আবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে নিউম্যানের আইনজীবীরা এর একটি কপি সংবাদমাধ্যমকে দিয়েছেন।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা একটি বন্ধ বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত কোন মামলার শুনানি করবে তা নিজেরাই নির্বাচন করে এবং বেশিরভাগ আবেদনই তারা মন্তব্য ছাড়াই খারিজ করে দেয়।
১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান নিউম্যানকে নবগঠিত ফেডারেল সার্কিট কোর্টে নিয়োগ দেন। এই আদালত মূলত মেধাস্বত্ব ও সরকারি চুক্তির মতো বিশেষায়িত বিষয়ের আপিল শুনানি করে। পেটেন্ট আইনের ক্ষেত্রে তার মতামতের জন্য তিনি 'গ্রেট ডিসেন্টার' নামে পরিচিতি পান।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল বিচারকরা আজীবন পদে বহাল থাকেন, যদি না প্রতিনিধি পরিষদ তাদের অভিশংসন করে এবং সিনেট তা অনুমোদন করে। তাই নিউম্যানকে সরাসরি পদ থেকে অপসারণ না করলেও ২০২৩ সালের শুরু থেকে তাকে নতুন মামলা শুনানি থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এর ফলে তিনি ফেডারেল সার্কিটের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু আইনি লড়াই থেকেও দূরে রয়েছেন, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি শুল্ক সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। গত বছর ওই মামলার শুনানিতে তিনি দর্শক সারির দ্বিতীয় সারিতে বসে সহকর্মীদের মুখোমুখি হন।
নিউম্যানের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টকে লিখেছেন,'কোনো আদালতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যেন সিনেট অনুমোদিত একজন বিচারককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে না পারে এবং অন্য বিচারকদের স্বাধীনতাকেও হুমকির মুখে না ফেলে।'
২০২৩ সালের বসন্তে ফেডারেল সার্কিটের প্রধান বিচারক কিম্বারলি মুর নিউম্যানকে অবসর নিতে রাজি করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল কন্ডাক্ট অ্যান্ড ডিসএবিলিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী তদন্ত শুরু করেন।
তদন্তে কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, নিউম্যানের আচরণ 'সন্দেহপ্রবণ', 'উত্তেজিত' এবং 'অস্বাভাবিক' ছিল। তারা দাবি করেন, তিনি সাধারণ কাজেও সহায়তা প্রয়োজন মনে করেন এবং মাঝে মাঝে তথ্য মনে রাখতে সমস্যায় পড়েন।
নিউম্যান চিকিৎসা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহকর্মী বিচারকরা তাকে নতুন মামলা শুনানি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। পরে এই স্থগিতাদেশ কয়েকবার বাড়ানো হয়েছে।
তবে নিউম্যান দাবি করেন, তিনজন ভিন্ন চিকিৎসকের করা তিনটি মানসিক পরীক্ষায় তিনি সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছেন।
স্থগিতাদেশের পরপরই তিনি সহকর্মী বিচারকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং বলেন, তার সংবিধানসম্মত অধিকার ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে।
গত গ্রীষ্মে ডি.সি. সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায় দেয় যে তাদের পূর্ববর্তী নজিরের কারণে নিউম্যানের দাবি বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। তবে আদালত এটিও উল্লেখ করে যে তার যুক্তিগুলো গুরুত্বহীন নয়।
এখন নিউম্যানের আইনজীবীরা আশা করছেন সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি শুনানি করবে এবং নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি