৪ মে ২০২৬

ছাবেদ সাথী'র কলাম

মামদানি অনভিজ্ঞ ও অগম্ভীর, তাঁর নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৫৫ পিএম
মামদানি অনভিজ্ঞ ও অগম্ভীর, তাঁর নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়

ছাবেদ সাথী
জোহরান মামদানি একজন গুরুতর প্রার্থী নন। আমরা কীভাবে জানি? কারণ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলেও, তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যালট প্রস্তাব ২, ৩ এবং ৪ নিয়ে কোনো মতামত দেননি অথচ এই প্রস্তাবগুলো সরাসরি সম্পর্কিত সেই “আর্থিক সংকট” বা “বাসযোগ্যতা সঙ্কট”-এর সঙ্গে, যেটিকে তিনি নিজের প্রচারের মূল ইস্যু বলে দাবি করেন।
আমি বলছি 'দাবি করেন' কারণ মামদানির প্রচারণার যেসব মূল প্রস্তাব যার বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান সেগুলোর কোনোটিই আসলে নিউ ইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ কমাতে সক্ষম নয়। তিনি নিশ্চয়ই সেটা জানেন, যদি না তাঁর দামি বোডউইন কলেজের শিক্ষায় তাঁকে বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ করে রাখে।
তিনি যেমন বলেছেন, অনুদানপ্রাপ্ত আবাসনের ভাড়া স্থির করে রাখা সম্ভব নয় এতে মালিকরা অলাভজনক ভবন ত্যাগ করবেন, ফলে আবাসনের সরবরাহ কমে যাবে এবং ভাড়া আরও বাড়বে।


বাস 'বিনামূল্যে' করা যাবে না কারণ তা হলে একই সুবিধা অন্যান্য গণপরিবহনেও দিতে হবে, ফলে ব্যয় আকাশছোঁয়া হবে।
সবুজ জ্বালানি প্রচারে বিদ্যুতের খরচও বাড়বে, আর উচ্চ আয়কারী ও ব্যবসায়ীদের ওপর কর বাড়িয়ে সব “বিনামূল্যের” প্রতিশ্রুতির অর্থ যোগানো যাবে না কারণ তাতে অনেকে শহর ছেড়ে চলে যাবেন।
মামদানির প্রস্তাবগুলো অবাস্তব এবং নিউ ইয়র্কের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকই তা জানেন। তবু হতাশাজনক হলো, যখন সত্যিকারের কিছু প্রস্তাব ভোটারদের সামনে এসেছে যেগুলো ভাড়ার চাপ কমাতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে মামদানি তাতে কোনো আগ্রহ দেখাননি।
এই প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য নিউ ইয়র্কে নতুন আবাসন নির্মাণ প্রক্রিয়াকে সহজ করা। আজ এই শহরই পৃথিবীর সবচেয়ে ধীর এবং ব্যয়বহুল নির্মাণস্থল। একটি নতুন কন্ডোমিনিয়াম বা অফিস ভবন নির্মাণে এক দশকেরও বেশি সময় লেগে যায়; জমির অনুমোদন ও পারমিট পেতে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রকল্পের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়।
যে কেউ ভাবতে পারে, একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে মামদানি নিশ্চয়ই এই সুযোগে নির্মাণ ব্যয় কমাতে ও আবাসনের সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহী হবেন, যাতে ভাড়ার বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। সর্বোপরি, নিউ ইয়র্ক সিটিতে অনেক আইন শিথিল হলেও, চাহিদা ও জোগানের আইন এখনো কার্যকর।
২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, শহরের ২ শতাংশেরও কম অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার জন্য খালি ১৯৬৮ সালের পর সবচেয়ে কম। সস্তা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও অবস্থা আরও করুণ। স্বাভাবিক খালি থাকার হার হওয়া উচিত ৫ থেকে ৬ শতাংশ; ২০২১ সালে তা ছিল ৪.৫ শতাংশ।
এই আবাসন সংকট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়কারীদের শহর থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। শহরের গড় আয় বছরে ৭০ হাজার ডলার, অথচ মাসে গড় ভাড়া এখন ৩,৬০০ ডলার যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
মামদানির কৃতিত্ব এখানেই যে তিনি 'বাসযোগ্যতা' ইস্যুটি ধরতে পেরেছেন এবং সেটিকে সফলভাবে প্রচারণার কেন্দ্রে এনেছেন। নিউ ইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ সত্যিই বেশি—জাতীয় গড়ের চেয়ে অন্তত ৭০ শতাংশ বেশি এবং তরুণ ভোটাররা ৩৪ বছর বয়সী এই প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন পরিবর্তনের আশায়।
কিন্তু এই ব্যয় সংকট, বিশেষ করে আবাসনের সমস্যা সমাধান করতে গেলে তাঁকে নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের মুখোমুখি হতে হবে যেখানে চরম বামপন্থীরা প্রাধান্য রাখে এবং ব্যবসাবান্ধব যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
গত বছর মেয়র এরিক অ্যাডামসের গঠিত সিটি চার্টার রিভিশন কমিশন ব্যালটের এই প্রস্তাবগুলো তৈরি করেছে। কমিশনের ১৩ সদস্য শহরের চার্টারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন, যাতে আবাসন নির্মাণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
প্রস্তাব ২, 'ফাস্ট ট্র্যাক অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং,' শহরের অর্থায়নে তৈরি নিম্নমূল্যের আবাসন প্রকল্পের জন্য দ্রুত অনুমোদনের সুযোগ দেবে এবং যেখানে নতুন আবাসন সবচেয়ে কম তৈরি হয়েছে, সেই ১২টি এলাকায় মিশ্র-আয়ভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে সিটি কাউন্সিলকে অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেবে।
প্রস্তাব ৩ একইভাবে আরেকটি প্রকল্পগোষ্ঠীর দ্রুত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করবে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিটি কাউন্সিলকে বাইরে রাখবে।
প্রস্তাব ৪ একটি নতুন 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং আপিলস বোর্ড' গঠন করবে, যেখানে থাকবেন মেয়র, সিটি কাউন্সিলের স্পিকার ও সংশ্লিষ্ট বরোর প্রেসিডেন্ট। এই বোর্ড সিটি কাউন্সিলের জমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে।
এই তিনটি প্রস্তাব কার্যত সিটি কাউন্সিলের ক্ষমতা হ্রাস করে সিটি হলকে আরও স্বাধীনভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দেবে। বর্তমানে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পেতে নয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে; কমিশন চায় এই প্রক্রিয়া দ্রুত হোক।
ফলে সিটি কাউন্সিলের রিয়েল এস্টেট নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হবে যা তাদের নির্বাচনী তহবিল বৃদ্ধি করে এবং তারা প্রবলভাবে রক্ষা করে।
মামদানি সাহস করেননি এই শক্তিশালী সিটি কাউন্সিলের বিরোধিতা করতে কারণ এর সদস্যরাই তাঁর সমর্থক। কিন্তু যিনি “আর্থিক সাশ্রয়”কে মূল ইস্যু করেছেন, তাঁর এই উদাসীনতা সত্যিই বিস্ময়কর।
তবে মামদানির প্রার্থিতার প্রায় প্রতিটি দিকই বিস্ময়কর হোক তা তাঁর কথিত ইহুদিবিদ্বেষ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি বিরাগ। নিউ ইয়র্ক এর আগেও এমন প্রগতিশীল পথে হেঁটেছে, মেয়র বিল দে ব্লাসিওর সময়ে আর তার ফল ভালো হয়নি।

ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক বাংলা প্রেস।

বিপি/এসএম
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি