৭ মে ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে পুলিশ কনস্টেবলের ভূমিদস্যুতা !

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরে পুলিশ কনস্টেবলের ভূমিদস্যুতা !

লক্ষ্মীপুর থেকে সংবাদদাতা : দীর্ঘ ৬২ বছরের শান্তিপূর্ণ বসবাস এখন আর নেই। ওদের লোভ-লালসা ও প্রতিহিংসায় গত ৬ মাস ধরে জ্বলছি আমরা। মাত্র ২৫ শতক জমি। জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে কি না করছে তারা! সন্ত্রাস ভাড়া করে প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমিতে ঘর নির্মাণের চলমান কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করেছে। আবার এসব অপকর্ম ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে ঘরের কিছু জিনিসপত্র নিজেরাই ভেঙ্গে প্রতিপক্ষের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টাও করেছে। শেষমেষ আদালতে মামলা করেও হেরেছে তারা।

এবার আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে আবারও গায়ের জোরে ওই জমিটুকু দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৩৩)। কথা গুলো বলছিলেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের প্রয়াত পুলিশ সদস্য রুহুল আমিনের ছেলে মোশারফ হোসেন বাবলু। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের ২৫ শতক জমির চারপাশে আড়া ও ছোট বড় অনেক গাছপালা রয়েছে। এগুলো আমরা অনেক বছর আগে লাগিয়েছি।

আমাদের প্রতিবেশী আনোয়ার গংদের জমি আমাদের জমির দক্ষিণ পার্শে ওদের জমির চারপাশেও আলাদা আড়া ও গাছপালা রয়েছে। অথচ ওরা জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। আমার পরিবারের লোকজন ও আমাকে মারধরের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়তই।

এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৩ জনের বিরুদ্ধে শনিবার (৮ জুন) লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন বাবলু। অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন, মনোয়ার হোসেন শাহীন (২২) ও মো. সুজন (২০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার।

স্থানীয়রা জানায়, পুলিশ কনস্টেবলের দুই ভাই মনোয়ার হোসেন শাহীন (২২) ও সুজন (১৯) পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা বর্তমানে নিজেদের ছাত্রলীগ দাবি করে এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারী রাতে আনোয়ারের নির্দেশে তার দুই ভাই একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

এ ঘটনায় পরদিন লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। স্থানীয় নুর নবী ও মোরশেদ আলমসহ কয়েকজন জানান, ওই রাতে আনোয়ারের ভাই শাহীন ও সুজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিজেদের ঘরের কিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চালায়। এদিকে পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, আমি একজন পুলিশ সদস্য হয়ে আদালত অবমাননা করতে পারি না। তারা আমাদের জমিতে ঘর তুলতে যাচ্ছে, তাই আমরা বাধা দিচ্ছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাবেদ হোসেন মামুন বলেন, আমি একাধিকবার চেষ্টা করেছি বিষয়টি সমাধান করতে। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার গংরা তা চায় না। তারা গায়ের জোরে ঝামেলা করছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি মোশারফ হোসেন বাবলু গংদের ওই জমি নিজেদের দাবি করে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিছ মামলা দায়ের করেন আনোয়ার গংরা। মিছ মামলা নম্বর ২৪/২০১৯। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন লাহারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবদুস সহিদ। এরপর উভয় পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ২ মে মামলাটি খারিজ করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গত ৮ জুন আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আনোয়ার গংরা মোশারফ হোসেন বাবলু গংদের কাজে বাধা দিয়েছে বলে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি