লালমনিরহাটের মাদক সম্রাজ্ঞী মোমি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে
মামুনুর রশীদ মিঠু, লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট মোগলহাট এলাকার বহুল আলোচিত চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী মোমি খাতুন আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেই কিশোরী বয়স থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মাদক ব্যবসা ছাড়তে পারেনি মোমি খাতুন। ডিবি পুলিশ ও লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হাতে ৭ বার ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করলেও আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় শুরু করে সেই মাদক ব্যবসা। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে ৭টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এসব মামলা থেকে বাঁচতে মোমির ভিন্ন নাটক শুরু করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী তরুনলীগ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির মিজানুর রহমান মিজানের ৩৩ শতক জমি দখল নিতে মিথ্যা অভিযোগের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেষাঁ মোগলহাট ইউনিয়ন। সেখানে হাত বাড়ালেই সহজে পাওয়া যায় মাদক। এ ইউনিয়নের কর্নপুর (মাঠেরপাড় গাড়ীয়ালটারী ওরুপে ব্যাপারীটারী) গ্রামের মৃত রমজান মেম্বারের মেয়ে মোমি খাতুন। গরীব পরিবারের জম্ম হওয়ার সুবাদে তারা পুরো পরিবার মাদক ব্যবসা করেন। এরমাঝে একই ইউনিয়নের দুড়াকুটি গ্রামে মোমি খাতুন প্রথম বিয়ে হয়। তার স্বামীর নাম নুর জামাল। বিয়ের এক বছরের মাথায় পরপুরুষের সাথে হাতে নাতে ধৃত হওয়ায় নুর জামাল তাকে তালাক দেন।
পরবর্তীতে বগুড়া মহিমাগঞ্জ থানার এলাকান জিলুর রহমান গরুর ব্যবসা করতে এসে মোমির কবলে পড়ে বিয়ে হয়। দ্বিতীয় বিয়ের পর এক কন্যা সন্তানে জননী হন মোমি। মোমির মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে একাধিকবার তার স্বামী বাড়ীতে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মাদক ব্যবসার কারণে স্বামীর বাড়ি না গিয়ে বাবার বাড়ীতে খুঁটি গারেন। মাদক ব্যবসার কারনে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। স্বামী চলে যাওয়া মোমি অসামাজিক কাজের পথ পরিস্কার হয়। প্রতিদিনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের লোকজন তার বাড়িতে মাদক সেবনের জন্য যাতায়ত করেন। তারমধ্যে ধর্ণাট্য পরিবারের যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে এনে বেকায়দায় ফেলে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দীঘদিনের মাদক ব্যবসার কারণে মোমি ডিবি পুলিশ ও লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হাতে ফেন্সিডিল ও মদসহ ৭ বার গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করেন এবং মাদক আইনে ৭টি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। যার মামলা নং লালমনিরহাট সদর থানার এফ আই আর নং-৩, তাং ০১ আগষ্ট ২০১৬, জি আর নং-২৬৮/১৬। এফ আই আর নং-৫৫, তাং ১৪ আগষ্ট ২০১৬, জি আর নং-৩২০/১৬। এফ আই আর নং-৩৬/৩৯০ তাং ১৬ জুলাই ২০১৭, জি আর নং-৩৯০/১৭। এফ আই আর নং-০২/১৯৮ তাং ০৩ এপ্রিল ২০১৭,জি আর নং-১৯৮/১৭। এফ আই আর নং-৬২, তাং ২৪ জুন ২০১৪। এফ আই আর নং-৪২/১৯৬, তাং ২০ এপ্রিল ২০১৩। এফ আই আর নং- ৪৪/৪৯৫, তাং ২৪ আগষ্ট ২০১৯, জি আর নং-৪৯৫/১৯। এসব মামলায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় শুরু করে মাদক ব্যবসা। এসব মামলার জট মাথায় নিয়ে মোমিসহ তার মা ও ভাই-বোন ২০১৮ সালে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের হাতে ফুল দিয়ে অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে আসার অঙ্গীকার করায় মিজান তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাই। অঙ্গীকারের ৫/৭ দিন যেতে না যেতে ওই মামলা পরিচালনার খরচ জোগাতে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান। মোমির মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে মিজান অনেক বুঝালেও মামলার কথা বলে মোমি পাশ কেটে যায়। মোমির মাদক ব্যবসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিজান তুলে ধরায় বাঁধ সেজে যায়। প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় মোমির ভিন্ন নাটক শুরু করেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী তরুনলীগ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির মিজানুর রহমান মিজানের ৩৩ শতক জমি দখল নিতে মিথ্যা অভিযোগের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি গত ৬/০৩/২০ ইং তারিখে লালমনিরহাট সদর থানা একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন পরিকল্পিত দাবী করে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী তরুনলীগ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি। সভাপতি, ডিজিটাল রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন, লালমনিরহাট। সভাপতি, অগ্নিশিখা স্পোটিং ক্লাব, মোগলহাট, লালমনিরহাট। মেঘারামহাট, মোগলহাট, বুমকা খেয়াঘাটের ইজারাদার। পরিবহন ও ঠিকাদারী ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ভুমিকা রাখছি। মোমি খাতুনের বাড়ীর পাশে আমার ক্রয় সুত্রে ৩৩ শতক জমি রয়েছে। সেই জমিটি মোমিরাই চাষাবাদ করতেন। কিন্তু কোন ফসলের অংশ দেয় না। তাই তাদের নিকট থেকে জমি ফিরত নিয়ে সীমানা বেঁড়া দিয়ে ইউক্লেপটাস গাছেন বাগান লাগাই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। জমিটি দখল নিতে গোপনে নানান ষড়যন্ত্রে শুরু করেন। ২০১৯ সালে একদিন জমি দেখতে গেলে তারা জোড় করে চা খেতে দেন। সেই চায়ের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত খাওয়ান এবং আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। আমাকে অচেতন অবস্থায় ঘরে নিয়ে আমার মাথায় হাত দিয়ে ছবি তুলে রাখেন। ওইদিন আমার হঠাৎ অসুস্থ্যতার বিষয় অনেকেই জানেন। এ ঘটনার পর থেকে আমি জমি দেখতে যাই না। এই সুযোগে আমার জমিতে বড় বড় গর্ত করে বাঁশের বেড়া ভাংচুর করেন। ওইসব গর্তে তারা প্রায় মাদক লুকিয়ে রাখে। তার মাদক ব্যবসার কর্মকান্ডে আমি ফেসবুকে তুলে ধরি।
এ কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে মোমি আমার বিরুদ্ধে মনগড়া কথা বলছেন। মিজান আরও বলেন, আমার জমি ছিনিয়ে নিয়ে মোমির সাথে লালমনিরহাটের গডফাদারের অলিখিত চুক্তি হয়েছে। আমাকে ফাঁসিয়ে জমি হাতিয়ে নিবেন। সেই গডফাদার সেখানে যা বলতে বলবে মোমি তাই বলবে বলে অঙ্গীকার করেছেন। এ বিষয়ে মোগলহাটবাসী বলেন, মাদক হলো সমাজের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে পারলে সামাজিক ও অন্যান্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। মোমি মাদক ব্যবসার অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে আসার অঙ্গীকার করেও মাদক ব্যবসা করছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে বার বার। মাদক ব্যবসায়ী মোমিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ সুপারের নিকট দাবি জানানএলাকাবাসী।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি