৬ মে ২০২৬

লালমনিরহাটে ২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭জন নিহত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
লালমনিরহাটে ২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭জন নিহত

মামুনুর (মিঠু),লালমনিরহাট থেকে: সড়ক দুঘর্টনা মত্যুর মিছিল। ২ মাসে লালমনিরহাটে প্রান হারিয়েছে ১৭জন। বে-পরোয়া গাড়ি চালনা। ট্রাফিক ব্যাবস্থা দূর্বলতা। এসব কারনেই ক্রমেই বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় প্রান হারাচ্ছে পথচারীরা। অনেকে আহত হয়ে বরন করছে পঙ্গুত্ব। দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের ব্যাপক সচেতনতা বিল বোর্ডেও হচ্ছে না রোধ। অনিরাপদ সড়কে যাতায়েত নিয়ে শংকিত পথচারীরা।

জানাগেছে,উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে সড়ক দুটর্ঘনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। চালকের বে-পরোয়া গাড়ি চালনায় প্রান হারাচ্ছে নিরীহ পথচারীরা। এছাড়াও নিষিদ্ধ হলেও মহাসড়ক গুলোতে ইজি বাইক নছিমন করিমন অবাধে চলাচল করায় সড়ক দূর্ঘটনার বেড়েছে প্রবনতা। প্রশাসনের নিরবতা রোধ হচ্ছে না মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা লিফলেট,বিলবোড দিয়েও রোধ হচ্ছে না মরন ঘাতি সড়ক দূর্ঘটনা। জেলা শহরের সাথে লালমনিরহাটের ৫ট উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়ক। এ সড়কে ৯৮ কিলোমিটার সড়কে বাক রয়েছে ৫৮টি রেল লেবেল কোসিং রয়েছে ১২টি।

এসব অবস্থার মাঝেও বে-পরোয়া ট্রাক-বাস চালানোর কারনে ওই সব স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে তিস্তা সেতু থেকে বড়বাড়ী সড়কে থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামুলক বিল বোড ও সভা প্রচার প্রচারনা চালালেও তাতেও রোধ হচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা অকালে ঝড়ে যাচ্ছে তাজা প্রান। নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা রেহাই পাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার কবল থেকে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার জন্য র‌্যালী ও মানববন্ধন করেও হচ্ছে না রোধ। লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থল বন্দর থেকে প্রতিদিন ২শত থেকে ৩শত পন্য বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যান। অধিকাংশ ট্রাক গুলোর ফিটনেসবিহীন। চালকের নেই ড্রাইভিং লাইন্সেস। কাটা ড্রাইভার দিয়ে চলে বাস-ট্রাক। এতে করে ড্রাইভার বে-পরোয়া গাড়ী চালনোর কারনে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়াও মহাসড়ক গুলোতে নছিমন করিমন শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চালানোর কারনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারাচ্ছে অনেকে। গত ২০১৮ সালে লালমনিরহাট জেলায় জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী দুই মাসে সড়ক দূর্ঘনায় প্রান হারায় ১০জন। কিন্তু তার পরিবর্তে ২০১৯ সালে ২ মাসে ১৯টি সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে প্রান হারায় ১৭জন।

দুই মাসে সড়ক দুর্ঘনায় ১৭জন প্রান হারার ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারন পথচারীদের মাঝে। সর্বশেষ গত ২০ ফেবুয়ারী বড়বাড়ী এলাকায় কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় প্রান হারায় ৫জন সিন্ডজি যাত্রীর। আহত হয় কয়েকজন। এর পর থেকে টনক নড়েছে ট্রাফিক পুলিশের। তারা বিভিন্ন সড়কে জোরদার করেছে ট্রাফিক চেক পোষ্ট। গত ৪ মার্চ লালমনিরহাট শহরের প্রান কেন্দ্র সার্কিট হাউজ সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় ছাত্রদল নেতা ফারুক হাসান রুবেল,১৯ ফেব্রুয়ারী বাস-মহেন্দ্র মূখামুখি সংঘর্ষে ৫জন নিহত হয় নিহতরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগরেশ্বরীর সাহাবুল ইসলাম (২৮),আক্কেস আলী (৫০),মোছাঃ শাবানা (৪০),আশিক বাবু (১১),পারমিন খাতুন (১২)। ১১ ফেব্রুয়ারী জেলার পাটগ্রামের বাউড়া বাজার এলাকায় ট্রাক-মটরসাইকেল সংর্ঘষে মোঃ আরিফ হোসেন (২৮),খোরশেদ হোসেন (২৭) নামের ২জন নিহত হয়। একই দিনেবড়বাড়ি মোস্তফি মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় অজ্ঞাত (৬০) বছরের এক বৃদ্ধ নিগত হয়।

৩ ফেব্রয়ারী পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় চান মিয়া (৪০) নিহত হয়। গত১৯ জানুয়ারী কড়িগ্রাম-বড়বাড়ী মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় অটো চালক আব্দুল খালেক (৩৮) নিহত হয়। একই দিনে হাতিবান্ধা উপজেলায় ট্রাক-মাইক্রেবাস সংঘর্ষে শফিকুল ইসলাম (৪০) নিহত হয়। ৫ জানুয়ারী আদিতমারী সমাজ সেবা কর্মকাতা মো: শফিকুল ইসলম কাকিনা মহিপুরে মাইক্রাবাসের সংঘর্ষে নিহত হয়। ১ জানুয়ারী জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইম ব্যাংকের ম্যানেজার শাহিনুর নিহত হয়। সড়ক দূর্ঘটনা মৃত্যুর মিছিল থামছেই না লালমনিরহাট জেলায়। চালকের বে-পরোয়া গাড়ি চালানো ও হেলপাড় দিয়ে ট্রাক চালানোর কারনে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এ ছাড়াও গত ২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় লালমনিরহাট জেলায় পঙ্গুত্ব বরন করেছে অনেকেই। কেউ হারিয়েছে াত কেউ বা পা হারিয়ে অসহায়ত্ব জীবনযাপন করছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পবিবারে সংসার চালানোর একমাত্র মানুষটি হারিয়ে পরিবার গুলো কষ্টে জীবনযাপন করছে। তাদের দেওয়া হয়নি কোন ক্ষতিপুরন। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরন দাবী করছে সড়ক দুর্ঘনায় নিহত পরিবার গুলো। হাতিবান্ধার ৫৫ বছরের সালাম মিয়া জানান দুধের শিশু রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেলে বাবা। ওই শিশুটি বাবু ডাক শুনতে আর পেলো না। এর জন্য দায়ী কে।

৭৮ বছরের বরকত আলী জানালেন, সড়কে যখন গাড়ি চালায় চালকরা পাশের মানুষ কে আর মানুষ মনে করে না। ছোট যানবাহন গুলোতে দুমড়ে দিয়ে যায় তার বিচার হবে না। কালীগঞ্জে আসমা বেগম বলেন, ট্রাক এসে ধাক্কা দিলো তার স্বামীকে ঘটনাস্থলে চোখের সামনে মারা গেলো স্বামী এ হত্যার বিচার চাই। মহেন্দ্রনগরের আক্কাস মুন্সি বলেন, সড়কোত হাটপার পাই না মারি ফেলায় বাহে মারি ফেলায় ট্রাক গুলা। বুড়িমারীর আছিয়া বেগম জানায়, তার স্বামী চাউল কিনতে বাজারে যায় আমি হাড়িতে পানি তুলি দেই কিন্তু পানি টগবগে উঠলেও পরে শুন ট্রাক তার স্বামীকে মেরে ফেললো। আমার ৪ বছরের সন্তান এর কি হবে। সন্তার বাবা বাবা বলে ডাকলেও নেই তার বাবা। কে বুঝাবে তাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরো অনেক পরিবারের এ আকুতি লালমনিরহাট জেলায়।তবে এ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনার বৃদ্ধি ও প্রান হারা কারন হিসাবে ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স এর এ উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর ইসলাম জানান বে-পরোয়া গাড়ি চালনা ও মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহনকে দুষলেন। সড়ক গুলোতে বে-পরোয়া গাড়ি চলানো বন্ধ না হলে বন্ধ হবে না সড়ক দুর্ঘটনা। তবে পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক জানান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে, দুর্ঘটনা রোধে আরো ব্যাপক কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, সড়ক দুঘটনা বন্ধে জনসচেতনতামুলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হচ্ছে। আর যেনো কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় যেন প্রান না হারায় সে ব্যপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সাধারন মানুষ।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি