৪ নভেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা : হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ এএম
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা : হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড ও বাকী ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশনে বন্টনের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ দিন, দুপুর ১২টায় সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন বিচারপতি নজরুল ইসলাম। এরপর কাকে কী দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা ঘোষণা করেন তিনি।

আমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়াও আলোচিত এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তবে আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছে।


মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ৩টি অভিযোগ আনা হয়। রায়ের পর ৩টি অভিযোগে সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ হয়েছে ফলে হানিফকে এ সাজা দেয়া হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে  মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

গত বছরের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই বছরের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে— মাহবুব-উল আলম হানিফ ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই এবং ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন। এ ছাড়া হানিফ ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে তাঁদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা এবং সহায়তার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন।


দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে— ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অপর আসামি মো. সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমান আতাসহ আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে আখ্যা দেন। এ সময় তাঁরা বলেন, কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করতে হানিফ নির্দেশ দিয়েছেন।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে— ১৪ দলীয় জোটের নেতা হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলনকারীদের ওপর মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্মূলের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিতেন। হাসিনাকে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা পাঠাতেন ইনু।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি