
রমজান আলী টুটুল, (নীলফামারী) সৈয়দপুর প্রতিনিধি: করোনার প্রভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শেখ ইসমত জাহান স্কুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারের সাহায্য সহযোগীতা না পেলে ঝড়ে পড়তে পারে প্রায় ছয় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯২ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয় শেখ ইসমত জাহান স্কুল। মহিয়সী নারী শেখ ইসমত জাহান শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে প্রতিভা বিকাশে প্রতিষ্ঠা করেন শেখ ইসমত জাহান স্কুল। প্রায় ২৯ বছরের এই স্কুলটি এখন পুন:রায় চালু করতে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন। কোন রকম সরকারি সহায়তা ছাড়া নাম মাত্র শিক্ষার্থীদের বেতনে চলে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। করোনা কালে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাননি। সৈয়দপুরে কিছু কিছু বে-সরকারি স্কুল আছে বেবসায়ীক মনভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ বেতন আদায় করছে।
ভাবটা এমন যেন শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের মধ্যে ১১০ নম্বর পাইয়ে দিবে। করোনা কালিন তাদের কোন প্রভাব পরেনি কারণ শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ঠিকই আদায় করেছে। সরকারি ও এমপিও ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা ছিল বহাল তবিয়্যতে। বেতন ছাড়াও স্কুল উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে সময় মত। কিন্তু কিন্ডার গার্টেন ও বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা। শিক্ষকদের বেতনতো দুরের কথা স্কুল ভবন জরাজীর্ণ পরিণত হয়েছে।
শেখ ইসমত জাহান স্কুলে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায়, শ্রেণি কক্ষগুলোর ছাদের টিন ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে বসার ব্রেঞ্চ গুলো পচে গেলে, সিলিং ফ্যানে পানি ঠুকে সবগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, পানির পাম্প নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, জানালা গুলো ভেঙ্গে পড়ে আছে ও দেয়াল থেকে প্লাস্টার খোসে পরছে। সাজানো গুছানো স্কুলটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সব মিলিয়ে জরাজির্ন এই স্কুলটি সরকারি সিদ্ধান্তে আবারও খুলবে। কিন্তু এত সমস্যা কিভাবে সমাধান করবে স্কুল পরিচালনা কমিটি সেই দু:চিন্তায় ভুগছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক কহিনুর আক্তার লিপি জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে শেখ ইসমত জাহান স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় ২৯ বছর আগে। অদ্যাবদি কোন প্রকার সরকারি সহায়তা আমরা পাই না। শিক্ষার্থীদের বেতন দিয়েই শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমসিম খেতে হয়।
এই মুহুর্তে অত্র প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারের প্রয়োজন। সমস্যাগুলো সমাধা না হলে শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হবে। এখানে শিক্ষকরা ত্যাগ শিকার করেই শিক্ষকতা করছেন। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবকরা জানান, শেখ ইসমত জাহান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখান থেকেই পাশ করে অনেকে ভাল পর্যায়ে চাকরি করছে। আমাদের সন্তানদের শিক্ষকরা মাতৃসূলভ আচরনে শিক্ষা দেয় বলেই আমরা এই স্কুলকে ভালবাসি। করোনা কালিন আমাদের কাছ থেকে কোন বেতন তারা চাননি এবং লেখা পড়ার খোজ খবর নিয়েছেন নিয়মিত। স্কুলটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থা হওয়ার কারনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করা খুবই কষ্ট কর হয়ে যাবে।
তাই আমরা অভিভাবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি যে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আপনার সু-নজরে এনে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে সুযোগ করে দিবেন।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]