কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার আদেশ খারিজ
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাবি
মিনারা হেলেন: নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাবির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহিষ্কার কার্যক্রম এক ফেডারেল অভিবাসন বিচারক খারিজ করেছেন। বিচারক রায় দেন, তার বহিষ্কার আইনসম্মত এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) জানায়, মাহদাবির আইনজীবীরা মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতে একটি চিঠি দাখিল করে জানান যে ম্যাসাচুসেটসের চেল্মসফোর্ডে অভিবাসন বিচারক নিনা ফ্রোস তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম বাতিল করেছেন।
বিচারক ফ্রোসের সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল সরকারের উপস্থাপিত একটি স্মারকলিপির সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থতা। নথিটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বলে দাবি করা হয়েছিল এবং সেটিই মাহদাবিকে বহিষ্কারের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিচারক প্রশ্ন তোলেন, রুবিওর স্বাক্ষরযুক্ত বলে দাবি করা ফটোকপিটি আদৌ আসল কি না। ওই নথিতে বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনপন্থী কার্যক্রম ও গাজা যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে মাহদাবির কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে এই যুক্তিতে তার গ্রেপ্তার প্রয়োজন।
তবে বিচারকের এই সিদ্ধান্ত 'উইদাউট প্রেজুডিস' হিসেবে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ সরকার চাইলে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারে বা একই অভিযোগে নতুন মামলা করতে পারে বলে এসিএলইউ জানিয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মাহদাবি বলেন, আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য এবং যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের সরকারি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য আমি আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ। এই সিদ্ধান্ত শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলার অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এমন সময়ে যখন ভিন্নমতকে প্রায়ই ভয়ভীতি ও আটক দিয়ে মোকাবিলা করা হয়, আজকের রায় নতুন করে আশা জাগায় যে যথাযথ প্রক্রিয়া এখনও কার্যকর এবং কোনো সংস্থা সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি