৫ নভেম্বর ২০২৬

ককরোচ জনতা পার্টির অর্থের উৎস কি যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ এএম
ককরোচ জনতা পার্টির অর্থের উৎস কি যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান?

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ভারতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে। 

দলটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদাতা, পাকিস্তানের রাজনীতিক এবং ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। 

তার অভিযোগ, বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে দলটি। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দলটির নেতারা।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ভারতবিরোধী বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন এবং দেশের ভেতরে ও বাইরের কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে দলটি অর্থ পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ভাষ্য, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত সংগঠন, তথাকথিত গভীর রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। 

তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদাতাদের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন অভিজিৎ দীপক। অন্যদিকে পাকিস্তানের রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন আশুতোষ রাঙ্কা।

এসব অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি লেখেন, ‘আর সৌরভকে?’ পাশাপাশি বিপুল অর্থ মাথায় নিয়ে ঘোরার একটি ব্যঙ্গচিত্রও প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা একাধিক বিষয় নিয়ে পাকিস্তানকে দায়ী করার প্রবণতা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, ভোট চুরি এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির জন্যও পাকিস্তান দায়ী। 

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগকে উপহাস করেন তিনি।

এদিকে বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহাও ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। 

তার দাবি, উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল দলটি। গত এক মাসে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ উসকে দেওয়া এবং নৈরাজ্য তৈরি করা।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুহিন সিনহা বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি ও কংগ্রেস উভয়ই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুনানি চলাকালে রাহুল গান্ধীর সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। 

গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে দলটির মক সংসদ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে এসব রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আবারও তলব করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তরমন্তরে প্রবেশ এবং অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। সব মিলিয়ে বিদেশি অর্থায়ন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিপি > এসপি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি