৪ মে ২০২৬

খাশোগি হত্যাকাণ্ড:সিনেটরদের সঙ্গে সিআইএ'র রুদ্ধদ্বার শুনানি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
খাশোগি হত্যাকাণ্ড:সিনেটরদের সঙ্গে সিআইএ'র রুদ্ধদ্বার শুনানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সঙ্গে মার্কিন সিনেটরদের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত না থাকার সম্ভাবনা 'শূন্য' বলে মনে করছেন তারা। ইতোমধ্যেই সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খাশোগি হত্যার অডিও রেকর্ড শুনেছেন সিআইএ প্রধান গিনা হ্যাসপেল। মঙ্গলবার তার এ সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেনদেজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার মতামত আগে যা ছিল, এখন তা আরও জোরালো হয়েছে। ইতোপূর্বে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বব মেনেনদেজ। ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসন বন্ধেও মার্কিন পদক্ষেপের পক্ষপাতী তিনি। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি যুবরাজের লোকজনই সমন্বিতভাবে এটি ঘটিয়েছে এমন উপসংহারে পৌঁছাতে না চাইলে আপনাকে জেনেশুনে অন্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, দৃশ্যত ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততার প্রমাণের বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না। সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর বব করকার। তিনি বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই যে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন এ ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই। বব করকার বলেন, বিচারের মুখোমুখি হলে ৩০ মিনিটের মধ্যে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কানাডায় নির্বাসিত এক সৌদি অ্যাকটিভিস্টের কাছে খাশোগির পাঠানো ৪০০-এরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। হত্যার শিকার হওয়ার আগের এক বছরে অ্যাকটিভিস্ট ওমর আব্দুল আজিজকে মেসেজগুলো পাঠিয়েছিলেন খাশোগি। এসব মেসেজে, সৌদি যুবরাজকে প্রায়ই জানোয়ার ও গ্রাসকারী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেন তিনি। এ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজগুলো খাশোগি হত্যারহস্য উদঘাটনের সূত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে সিএনএন। ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন তিনি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে। হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও খাশোগি হত্যা রহস্যের সুরাহা এখনও হয়নি। এরমধ্যেই কানাডায় নির্বাসিত সৌদি অ্যাকটিভিস্ট ওমর আব্দুল আজিজকে খাশোগির পাঠানো চার শতাধিক মেসেজ হাতে পেয়েছে সিএনএন। আব্দুল আজিজই মেসেজগুলো সিএনএন-কে দিয়েছেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই মেসেজগুলোতে খাশোগি সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করেছেন। যুবরাজকে নিয়ে শঙ্কা ছিল তার। একটি মেসেজে তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘যত বেশি শিকার করতে পারেন, ততবেশি তার (সৌদি যুবরাজ) শিকারের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়।’ আরেকটি মেসেজে সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে খাশোগি লিখেছেন, ‘তিনি জোরজবরদস্তি, দমন-পীড়ন পছন্দ করেন এবং সেগুলো দেখানোর প্রয়োজনবোধ করেন, তবে অত্যাচারের পেছনে কোনও যুক্তি থাকে না।’ বিপি/ইউএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি