খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দিয়ে মানবাধিকার লংঘন করছে সরকার: ফখরুল
বাংলাপ্রেস অনলাইন: কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনদেরও দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব বলছেন, সাক্ষাতের অনুমতি না দিয়ে ‘মানবাধিকার লংঘন’ করছে সরকার। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ১১ দিন যাবত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজনরা কয়েক দফা চেষ্টা করেও তার সাথে দেখা করতে পারেননি, আমরাও দেখা করতে পারিনি, আইনজীবীররা দেখা করতে পারেননি। মির্জা ফখরুল বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করাটা একজন কারাবন্দির ‘সাংবিধানিক অধিকার’।
জেল কোড-২০০৬ অনুযায়ী দেশনেত্রীকে তার সম্পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেটা করে তারা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার লংঘন করছেন, সংবিধান লংঘন করছেন। পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনরা সর্বশেষ দেখা করেন গত ৩০ জুন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেখা-সাক্ষাতের ব্যাপারে জেল সুপারকে বলা হলে তিনি বলেন আইজি প্রিজনের কথা। আইজি প্রিজনকে বললে তিনি বলেন, মন্ত্রীকে বলেন। মন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, এক নম্বরের সম্মতি ছাড়া আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমি নিশ্চয় আপনাদের (সাংবাদিক) বুঝাতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণভাবে কারাবিধি লংঘন করে যেখানে জেল সুপার ইজ দ্য ফাইনাল অথোরিটি, সেই লংঘন করে আজকে তাকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমাদের যদি সরকারের প্রধান ব্যক্তির কাছে যেতে হয় তাহলে তো এদেশে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর ওই মামলায় জামিন হলেও নাশকতা ও অবমাননার কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বেরোতে পারেননি।
এ বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজায় ছিলেন, সেই মামলায় উনি জামিনে আছেন। সেই মামলায় তিনি আর কারাবন্দি নন। তিনি এখন অন্যান্য যেসব মামলা আছে যেগুলো আন্ডার ট্রায়াল বিচার হয়নি, সেসব মামলায় বন্দি রয়েছেন। সে হিসেবে কারাবিধি অনুযায়ী তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষাতের কথা লেখা আছে।
সেখানে বলা আছে, সপ্তাহে একদিন করে মাসে চার দিন দেখা করতে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে জেল সুপার যদি মনে করেন আরও বেশি দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়াকে ‘রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই’ তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, দেশে এক দানবীয় শাসন চলছে, তার যে ভয়াবহতা চলে তার প্রথম ভিকটিম হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে নির্মূল করতে পারলে, তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের কাঁটা একেবারে দূর হয়ে গেল। সেটা কোনো দিন সম্ভব নয়, হবে না। চিৎিসার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যেটা আশঙ্কা করছি যে, দেশনেত্রীকে প্রকৃতপক্ষে এক হচ্ছে রাজনীতি থেকে, দুই নির্বাচন থেকে এবং সর্বশেষ তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে কি না সেটাই আমাদের এখন আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ, মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাপ্রেস/এফএস
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি
