কাউকে হত্যা না করেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের মুখে আলাবামার সনি
সনি বার্টন কখনও কাউকে হত্যা করেননি
ইমা এলিস: এই বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই: ৭৫ বছর বয়সী চার্লস 'সনি' বার্টন কখনও কাউকে হত্যা করেননি। তবু বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্য তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে।
আলাবামার উইলিয়াম সি. হোলম্যান কারাগার থেকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে বার্টন বলেন, 'আমি এমন কিছুর জন্য মরতে পারি না, যা আমি করিনি।' গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সেখানে আছেন।
বার্টনের মৃত্যুদণ্ড সম্ভব হয়েছে 'ফেলনি মার্ডার' নামে একটি আইনি নীতির কারণে। এই নীতি অনুযায়ী, ডাকাতি বা চুরির মতো কোনো অপরাধের সময় যদি হত্যা ঘটে, তাহলে ওই অপরাধে জড়িত সবাইকে হত্যার দায়ে সমানভাবে অভিযুক্ত করা যায় এমনকি যদি কেউ নিজে হত্যাকাণ্ডটি না করে থাকে।
দ্য সেন্টেন্সিং প্রজেক্টের গবেষণা পরিচালক নাজগোল গান্দনুশ বলেন, 'ফেলনি মার্ডার আইনের ফলে অপরাধে জড়িত সবাইকে এমনভাবে দেখা হয় যেন তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ডটি করেছে।
১৯৯১ সালে টালাডেগার একটি অটোজোন দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ছয়জনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বার্টন। সেই ডাকাতির সময় ৩৪ বছর বয়সী গ্রাহক ডাগ ব্যাটল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
বার্টন স্বীকার করেছেন যে তিনি অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকেছিলেন এবং পেছনের কক্ষের একটি সেফ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। এরপর তিনি পালানোর গাড়ির কাছে বাইরে অপেক্ষা করতে যান।
এদিকে দোকানের ভেতরে তার সহযোগী ডেরিক ডিব্রুস ব্যাটলকে মাটিতে ফেলে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করেন। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালও আদালতে দেওয়া নথিতে এই তথ্য স্বীকার করেছেন।
বার্টন বলেন, 'আমি জানতাম না যে সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটবে। জানলে আমি তা থামানোর চেষ্টা করতাম।'
তবুও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা দাবি করেছিলেন, তিনি ডাকাতির “মূল পরিকল্পনাকারী” ছিলেন—যা বার্টন অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, 'আমি কাউকে সাহায্য করিনি, কাউকে উসকেও দিইনি, কাউকে গুলি করতে বলিনি।'
অন্যদিকে যিনি আসল গুলি করেছিলেন, সেই ডেরিক ডিব্রুসের শাস্তি পরে কমিয়ে আজীবন কারাদণ্ড করা হয়, কারণ আদালত রায় দেয় যে তার আইনজীবী বিচারের সময় যথাযথভাবে তাকে প্রতিনিধিত্ব করেননি।
বহু বছর দুইজনই একই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিশালায় ছিলেন। পরে ডিব্রুসের সাজা পরিবর্তনের পর তাকে অন্য কারাগারে নেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালে কারাগারেই মারা যান।
অন্যদিকে বার্টনের সাজা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে যদিও তার পক্ষে অপ্রত্যাশিত সমর্থনও তৈরি হয়েছে।
নিহত ডাগ ব্যাটলের মেয়ে টরি ব্যাটল, যার বয়স তখন মাত্র ৯ বছর ছিল, সম্প্রতি এক নিবন্ধে আলাবামার গভর্নর কে আইভিকে বার্টনের প্রাণভিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, 'বার্টন এখনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন নৈতিকতার কারণে নয়, বরং আইনি জটিলতা আদালতকে অতীতের ভুল সংশোধন করতে বাধা দিয়েছে।
এমনকি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে ভোট দেওয়া কয়েকজন জুরিও এখন তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। ছয়জন জুরি গভর্নরের কাছে ক্ষমা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে হলফনামা দিয়েছেন।
জুরি প্রিসিলা টাউনসেন্ড বলেন, 'যিনি ট্রিগার টানেননি, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড খুব কঠোর শাস্তি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এখন তাকে খারাপ মানুষ মনে করি না। আমরা তখন তরুণ ছিলাম এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।'
যদি গভর্নর আইভি প্রাণভিক্ষা না দেন অথবা সুপ্রিম কোর্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিতাদেশ না দেয়, তাহলে বার্টন হবেন নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নবম ব্যক্তি। এই পদ্ধতি প্রথম আলাবামায় ২০২৪ সালে প্রয়োগ করা হয়।
তবে আলাবামা কর্তৃপক্ষ বলছে, বার্টনের মৃত্যুদণ্ড যথাযথ। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া নথিতে লিখেছেন, তার মৃত্যুদণ্ড অনেক আগেই কার্যকর হওয়া উচিত ছিল।
১৯৭২ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কমের সাজা কমানো হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার।
এদিকে বার্টন এখনও আশা ছাড়েননি।
তিনি বলেন, 'গ্যাস মাস্ক মাথায় বেঁধে চেয়ারে বসার সময়ও আমি আশা হারাব না। আমি শুধু মানুষকে বলতে চাই আমি কাউকে হত্যা করিনি। এগুলোই আমার শেষ কথা।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি