৪ মে ২০২৬

কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার মসজিদে তান্ডব ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার মসজিদে তান্ডব ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ম্যানচেস্টার বাইতুল মামুর মসজিদটি স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রাণের মসজিদ। সকলের অনুদান, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আল্লাহর ইচ্ছায় বাংলাদেশি একটি গ্রোসারি দোকানের ভূগর্ভস্থ অংশ (বেসমেন্ট) থেকে আজ একটি চূড়ান্ত অবস্থানে তথা পূর্ণাঙ্গ মসজিদে পরিণত হয়েছে। তিলে তিলে গড়া এ মসজিদ নির্মাণের জন্য ম্যানচেস্টার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। কিন্তু বাংলাদেশি সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদারতার সুযোগে গত বেশ কয়েক বছর ধরে তারেক আম্বিয়া গংরা সুকৌশলে তার আত্মীয়স্বজনকে মসজিদ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। চর দখলের মত গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা নয়া করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন। কোষাধ্যক্ষ পদলেহী তারেক আম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ সকলকে তার কর্মচারির মত ব্যবহার করছেন। তাদেরকে পদানত করে নোংরামির মাধ্যমে মসজিদের পবিত্রতা ভুলুন্ঠিত করেই যাচ্ছেন। এতে কমিটির কেউই টু শব্দ করারও সাহস পান না। সভাপতি -সম্পাদক পা-চাটা গোলামের মতো জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর করে দিন পার করছেন। বিগত প্রতিটি সাধারন সভায়, মুসুল্লি ও সাধারন সম্পাদকের প্রশ্ন উত্তর পর্বে অযাচিত ভাবে নাক গলান, ইশারা-ইঙ্গিত আর কটুক্তি করে সভার পরিবেশ উত্তপ্ত করে আসছে। তার সাথে যুক্ত হয়ে তার আত্মীয় স্বজনরা মসজিদের ভেতরেই আল্লাদ করেন। আরও পড়ুন: কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার মসজিদে মুসল্লিদের ওপর ফের হামলা (ভিডিওসহ) গত ২৬ জুন ২০২০ শুক্রবার সাধারন সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সাধারন সম্পাদক আশিক রহমান সুশৃংখলভাবেই মুসুল্লিগনের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন মসজিদের সংবিধানের কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের জন্য মুসুল্লিরা দাবি করে আসছিলেন। বলা হয়েছিল সাধারন সভায় বিষয়টি তোলা হবে। প্রতিটি সাধারন সভায় তারেক গংদের ইশারায় এড়িয়ে যাওয়া হয়। তারেক বারবার বিভিন্নভাবে অঙ্গভঙ্গি ও অহেতুক কথা বলে সাধারন সম্পাদককে মুল প্রসঙ্গ সরিয়ে নেন। এক পর্যায়ে প্রশ্নকারিদের উদ্দেশ্যে 'শয়তান' শব্দটি উচ্চারন করেন। তার চাচাতো ভাই মইনুল তার সাথে সুর মিলিয়ে শয়তান শব্দটি পুনঃব্যবহার করেন। তখন উপস্হিত মুসুল্লিরা এর প্রতিবাদ করায় মইনুল,নাজমুল ও টিপু আম্বিয়া মুসুল্লিদের উপর চড়াও হয়। যার ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা ও সুনামক্ষুন্নের কথা চিন্তা করে ওইসময় পুলিশ ডাকা থেকে বিরত থাকেন মুসুল্লিরা। কিন্তু তারপরও উপস্হিত সকল সদস্যকে উপেক্ষা করে, ক্ষমা না চেয়ে তারেকের ইচ্ছায় পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করেন। আরও পড়ুন: কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে মুসল্লির ওপর হামলায় পুলিশে অভিযোগ উল্লেথ্য, ট্রাস্টি বোর্ডের দু'জন সদস্য দ্বিমত পোষন করেন ঐদিন কমিটি গঠন না করে সময় নিয়ে পরবর্তিতে কমিটি করার ব্যাপারে তারা মত দেন। সাধারন সম্পাদক আশিক রহমানও প্রস্তাব করেন। উদ্ভূত পরিস্হিতি নিরসনের স্বার্থে এডভোকেট সালেহ্ আহমেদের প্রস্তাবিত (বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন মাস বর্ধিত করে ইতিমধ্যে আর একটি সাধারন সভার মাধ্যমে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব এনে সাধারন সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি করা যেতে পারে)- এ প্রস্তাবে দুই তৃতিয়াংশ মুসুল্লি মত দেয়। কিন্তু তারেক গংরা জোরপূর্বক ১৩০ জন মুসল্লি সদস্যের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করে মাত্র ৩১ জন (তাদের ভাষ্যমতে) সদস্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন। গত বছর ১২ অক্টোবর এই তারেক আম্বিয়া উদ্ধ্যত আচরণ করে পূর্বের ইমাম জোবায়ের আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। যা সারা বিশ্বব্যাপী প্রচার মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি ও তার স্ত্রী বেশ কজন মুসুল্লিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতেও বলেছিল। তিনি কমিটিসহ সাধারন মুসুল্লিদেরকে হেনেস্হা করেছেন নানাভাবে। তার স্ত্রী বেশ ক'বছর আগে মসজিদের ভিতরে রওনাক আফরোজ নামের একজন মহিলা মুসল্লিকে নামাজ পড়া অবস্থায় অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে হেনস্হা করেন ও মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।আপামর বাংলাদেশি মুসুল্লিদের মসজিদ হওয়া সত্বেও বিভিন্ন জায়গায় তিনি এ মসজিদটিকে তার নিজের বলে চালিইয়ে দেন। এছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডেও হীনভাবে কারনে-অকারনে নাক গলানোর চেষ্টা করেন। অনেকেই এ ব্যাপারে তার উপর ক্ষিপ্ত ও বিরক্ত। তার স্বার্থের জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি কমিউনিটিকে হেয় করতে তিনি বিন্দুমাত্র পিছপা হন না। কেউ কমিউনিটির ভালো কাজ করলে তার চক্ষুশূল হয়। এমনকি টাউন অব ম্যানচেস্টারের মেয়র ও তার হীন কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন: কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে মসজিদের ইমাম লাঞ্ছিত সাম্প্রতি মসজিদ কমিটির সদস্য/মুসল্লিদের ছবিযুক্ত একটি খবর তার পৈত্রিক জেলা সিলেটের একটি অখ্যাত (সুরমা ভিউ) পত্রিকায় তারেক গংরা যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউই মসজিদ কমিটির কোন পদের জন্য কাঙাল না। যার প্রমাণ দশ বছর আগে সম্মিলিত বাংলাদেশি মুসুল্লিদের দ্বারা কমিটি করার সময় হারুন আহমেদ ও জাহেদ চৌধুরি লিটন অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন। অথচ তারাই ম্যানচেস্টারে মসজিদের নির্মাণের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা। পরবর্তিতে বেশ ক'বছর পর মোল্লা বাহাউদ্দিনকে কমিটিতে ঢুকতে আমন্ত্রন জানালে সেও অপরাগতা প্রকাশ করেন। সাবেদ সাথী প্রথম কমিটিতে প্রচার সম্পাক ছিলেন। আহাসান হেলাল পূর্বের কমিটিতে ছিলেন। সরকার মামুন করোনাকালীন সময়েও বর্তমান মসজিদে আসা মরদেহের গোসল ও দাফনে নিঃস্বার্থেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা শুধু মসজিদ ও মুসুল্লিদের কল্যাণে সুন্দর ভাবে মসজিদ পরিচালনার জন্য গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কয়েকজন মুরুব্বি মুসুল্লি এবং দু'জন সংবিধান প্রণেতা তাদের দাবির প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেছেন। এদের একজন বলেন বর্তমানে যেভাবে কমিটি চলছে এ চিন্তা করে সেদিন তারা সংবিধানটি রচনা করেননি। আরও পড়ুন: কানেকটিকাটে ইমাম লাঞ্ছিতের ঘটনায় মাফ চাইলেন কোষাধ্যক্ষ তারা আরো বলেন, উপস্হিত সকল মুসুল্লিরা বাংলাদেশি স্হানীয় এবং সময়ের দাবিতে মসজিদের স্বার্থে গঠনতন্ত্রে যেকোনো সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু তারেক গং তার নিম্নরুচি ও হীন স্বার্থ চরিতার্থ করে পবিত্র মসজিদকে অপবিত্র করেছেন। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অন্য কোনো পদ নয়, মুসল্লিদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি শুধু কোষাধ্যক্ষ পদকে কামড়ে ধরে থাকতে চায়। সাধারন মুসুল্লিরা কথাবলার এক মাত্র সুযোগ পায় সাধারন সভায়। প্রতিবারই সামান্য সময় দেয়া হয় কথা বলার জন্য আবার প্রশ্ন করলে তারেক ক্ষিপ্ত হয়ে অসভ্য আচরন করে তার আত্মীয়স্বজনদের লেলিয়ে দেন। আদব কায়দা ছেড়ে পুরদস্তর একটা বেয়াদব বটে! এবার প্রশ্নকারী কমিউনিটির সুপরিচিতজনদের ছবিযুক্ত মিথ্যা সংবাদ নামসর্বস্ব অনলাইন পত্রিকায় প্রচার করে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। কমিউনিটির সবাইকে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষনপূর্বক মুসল্লিদের পক্ষে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হারুন আহামেদ। খবর বিজ্ঞপ্তির। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি