কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে মোতায়েন করা হবে আইসিই এজেন্ট: হোম্যান
বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট মোতায়েন
নোমান সাবিত: হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান জানিয়েছেন, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বন্ধ থাকায় সৃষ্ট দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইনের চাপ কমাতে সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট মোতায়েন করা হবে।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘায়িত শাটডাউন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে ভ্রমণকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হতে পারে।
রবিবার সিএনএন-এর 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে হোম্যান নিশ্চিত করেন, সোমবার থেকেই এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, 'আগামীকাল আমরা বিমানবন্দরে থাকব, টিএসেএ-কে লাইনের চাপ কমাতে সহায়তা করব। তিনি আরও জানান, আইসিই এজেন্টরা মূলত এক্সিট ডোর পাহারা দেওয়ার মতো কাজ করবে, যাতে টিএসএ কর্মকর্তারা যাত্রী স্ক্রিনিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। তিনি যোগ করে বলেন,যেসব কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই, সেসব ক্ষেত্রেই আমরা সহায়তা করব।
হোম্যান জানান, পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সোমবার সকালেই কোন কোন বিমানবন্দর থেকে শুরু হবে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন,
আজকের মধ্যেই আমরা একটি পরিকল্পনা তৈরি করব কোন বিমানবন্দর দিয়ে শুরু করব এবং কোথায় এজেন্ট পাঠানো হবে। এটি এখনও প্রক্রিয়াধীন।
১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ডিএইচএস শাটডাউনের কারণে বিমানবন্দর কর্মীরা চাপে পড়েছেন। অনেক টিএসএ কর্মী বেতন ছাড়া কাজ করতে না চেয়ে ছুটি নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাটডাউন শুরুর পর থেকে ৪০০-র বেশি টিএসএ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন।
এদিকে, আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের প্রেসিডেন্ট এভারেট কেলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, আইসিই এজেন্টরা বিমান নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত বা সার্টিফায়েড নন। টিএসএ কর্মকর্তারা মাসের পর মাস প্রশিক্ষণ নেন বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করার জন্য, যা বিশেষজ্ঞ দক্ষতা দাবি করে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে শেখানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, 'অপ্রশিক্ষিত লোকজনকে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বসানো কোনো শূন্যতা পূরণ করে না, বরং নতুন ঝুঁকি তৈরি করে।'
কেলি কংগ্রেসকে 'রাজনীতি বন্ধ করে দায়িত্ব পালন' করে টিএসএ-র জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর ডেমোক্র্যাটরা ডিএইচএস-এর অর্থায়নের বিনিময়ে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা নিউ ইয়র্কের হাকিম জেফ্রিস এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, 'দেশজুড়ে বিমানবন্দরে অপ্রশিক্ষিত আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা আমেরিকানদের জন্য মোটেই ভালো নয় এতে তারা হয়রানি বা এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।'
তবে জেফ্রিস ইঙ্গিত দেন, ডেমোক্র্যাটরা তাদের দাবিতে অনড় থাকবেন।
তিনি বলেন, 'রিপাবলিকানরা TSA কর্মীদের বেতন ছাড়া কাজ করতে বাধ্য করছে, লাখো আমেরিকানকে ভোগান্তিতে ফেলছে এবং এখন অপ্রশিক্ষিত আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়—এটি দুর্ভাগ্যজনক।'
জেফ্রিস আরও বলেন, 'আমাদের মতে, বড় ধরনের এবং কার্যকর পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আইসিই যেন আর এক পয়সাও করদাতাদের অর্থ না পায়।'
ডেমোক্র্যাটরা টিএসএ-সহ ডিএইচএস-এর অন্যান্য সংস্থার জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিপিবি)-কে সেই প্রস্তাব থেকে বাদ রাখার কথা বলেছেন। যদিও রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে বাধা দিয়েছেন।
তবে কিছু রিপাবলিকান এখন আইসিই ও সিপিবি-এর অর্থায়ন আলাদা করার ধারণার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এবং লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডি এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কেনেডি বলেন, 'চলুন আইসিই বাদ দিয়ে বাকি সবকিছু চালু করি। এরপর রিপাবলিকানরা একটি রিকনসিলিয়েশন বিল আনবে, যার মাধ্যমে শুধুমাত্র রিপাবলিকান ভোটেই আইসিই-এর অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি