ঝালকাঠিতে নারী পুলিশের মৃত্যুতে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা, স্বামী রিমান্ডে
আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে বিষপানে আত্মহননকারী নারী পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় তার স্বামী পুলিশ কনেষ্টবল তরিকুল ইসলাম আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনেষ্টবল নাদিয়া আফরিনের (২৮) মৃত্যু হলে তার পিতা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে দ:বি: ৩০৬ ধারায় ঝালকাঠি থানা এ মামলা দায়ের করে। শুক্রবার সকাল থেকেই ঝালকাঠি থানা হেফাজতে থাকা নিহত নাদিয়ার স্বামী পুলিশ কনেষ্টবল তরিকুলকে শনিবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত তাহের উদ্দিন আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডাবেদন জানালে আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে তরিকুলের পিতা নলছিটি থানা পুলিশের ওয়ারলেস অপারেটর দেলোয়ার হোসেন দাবী করেছেন, ‘তার ছেলের সাথে ডিভোর্সের জন্য নিহত পুলিশ কনেষ্টবল মেয়েটির মা- ফুপুর অতিরিক্ত চাপ ও বিয়ের আগে অপর পুলিশ সদস্য ফরহাদ সাথে সম্পর্কসহ তাদের যৌথ ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার কারনেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে কিন্তু তার ছেলের তরিকুল নির্দোষ’।
এ বিষয়ে ওসি ওপারেশন খলিলুর রহমান বলেন, ঝালকাঠি সদর থান একজন নারী পুলিশ সদস্য আত্মহত্যার করেছে। পারিবারিক কলেহের কারনে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের জের এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছে। তবে নিহত নাদিরার বাবা বাদী হয়ে স্বামী পুলিশ কনেষ্টবল তরিকুল ইসলামর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা রেকর্ড করেছে। মামলার আইও’র আবেদনে মাননীয় আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একমাত্র আসামী স্বামীকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আসামী নিহত নাদিয়ার স্বামী পুলিশ কনেষ্টবল তরিকুলকে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে তরিকুলের পিতা পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি সহ ৪ ভাই ও তার পুত্র ৫জন পুলিশ বিভাগে কর্মরত থাকলেও ছেলে তরিকুলের সাথে বিয়ের ব্যাপারে তারা কিছুই জানতেন না। তার ছেলে পূর্বেই বিবাহিত থাকায় প্রথম স্ত্রী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়া পর তারা এই বিয়ে সম্পর্কে জানতে পারেন। তারা যতোটুকু জেনেছেন নিহত নাদিয়ার পরিবার তাকে তরিকুলকে তালাক দেয়ার জন্য ভীষন চাপ দিয়ে আসছিল। তারমধ্যে পরকিয়া প্রেমিক ফরহাদের কাছে থাকা কিছু ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নাদিরা ও তরিকলকে ব্লাকমেইল বিভিন্ন সময় টাকা- হাতিয়ে নেয়ার পরেও ফেসবুকে সেই ছবি ছড়িয়ে দেয়ায় আত্মসম্মানের জন্য সে এ অঘটনা ঘটিয়েছে। এব্যাপারে তার পুত্র পুলিশ বিভাগের সদস্য তরিকুল নির্দোস বলে সে দাবী করেছে।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি