৮ মে ২০২৬

জবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রদের দৌরাত্ম, নিরব প্রশাসন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
জবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রদের দৌরাত্ম, নিরব প্রশাসন

জবি থেকে সংবাদদাতা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিস্কৃত ছাত্রদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট হয়ে উঠছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাস ও এর আশেপাশের এলাকায় এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রায়ই মেয়েদের লাঞ্চিত, চাঁদাবাজি, মারামারি এবং গুমের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে । এই ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানলেও কঠোর ব্যবস্তা নিচ্ছেনা তাদের বিরুদ্ধে। সুযোগ দেওয়ায় বারবার বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন উশৃঙ ছাত্ররা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানো যে সমস্ত শিক্ষার্থীর নাম প্রায় উঠে আসছে তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে একাধিকবার শাস্তি প্রাপ্ত। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, ইতিহাস বিভাগের ১২ ব্যাচের নূরে আলম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১১ব্যাচের আল সাদিক হৃদয় ইতিপূর্বে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কার হলেও বর্তমান ক্যাম্পাস ও এর আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধকান্ডে জড়িত। গত ১৩তারিখে রাতেও এক নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিত করে তারা।

ইতিপূর্বে, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সাময়িক বহিষ্কার হয় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নূরে আলম। একই বছর ১৫ নভেম্বর, আলি সাদিক হৃদয়কে এক টমটম চালককে মারধর ও ছাত্রলীগের দুইগ্রুপে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেসেজ চালাচালির জের ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাবেক দুই শিক্ষার্থীকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর অভিযোগে ৭ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যতম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আল সাদিক হৃদয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির প্রায় থেকে নূরে আলম ও আল সদিক হৃদয় দৈনিক প্রায় ১০ হাজার টাকা চাঁদা তোলে। জানা যায়, ফুচকা দোকান সহ ১৩টি চায়ের দোকান থেকে দৈনিক ১৫০-২০০ টাকা, খিচুড়ি ৩ টা দোকান থেকে ৩০০ টাকা ,ভাতের হোটেল ২টা ৩০০ টাকা ,রুটি-লুচি ৩টা দোকান থেকে ৩০০ টাকা, সিংগারা-সমুচা দোকান থেকে ৫০০, এছাড়াও রয়েছে বরফ,শরবত, শুকনো খাবারের দোকান সহ কয়েকটি পান-সিগারেটের দোকান থেকে ১০০-২০০ টাকা করে টাকা তোলা হয়। এছাড়াও গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেমঘটিত কারণে শাখা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপে সংঘর্ষেও অস্ত্রহাতে দেখা যায় নূরে আলমকে। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বেপোরয়াভাবে বাইক চালানোর অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় জড়িত বহিস্কৃত পরিচয়হীন ছাত্রলীগ কর্মীদের আড়াল থেকে মদদ দিচ্ছেন জবি ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা সৈয়দ শাকিল । এই পদপ্রত্যাশী নেতাকেও বিভিন্ন সময়ে মারামারির ঘটনায় হাতে চাপাতি ও দা নিয়ে ঘুরতে। এছাড়াও জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাকিল। শাখা ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের সংঘর্ষে শাকিলের হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ছবিও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

এসমস্ত অভিযোগের বিষয়ে আল সাদিক হৃদয় বলেন, টিএসসিতে আমরা সবসময় যাতায়াত করি চা খায়, আমরা ওখান থেকে কোনো প্রকার চাঁদা নিই না,বরঞ্চ আমরা দোকানদারদের বলে দিছি কেউ চাঁদা নিলে আমাদের বলতে। নারী শিক্ষার্থী লাঞ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ছোটোভাইয়ের বাইকে আমি আসছিলাম, মেয়ে সাইড দিতেছিলো না আমার ছোটভাই সোজা চালইদিছে, মেয়ের গায়ে লাগে কি লাগে নাই। আমি ৭-৮ বার সরি বলছি মেয়েকে।

এবিষয়ে কথা বলতে চাইলে নূরে আলমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। কর্মীদের অপকর্মের বিষয়ে সৈয়দ শাকিল বলেন, এরা এভাবে চললে আমার সাথে এদের রাজনীতি করার দরকার নাই, আমি এদের বলে দিবো। কোনো জায়গা থেকে টাকা নিবে, কোনো মেয়েকে আপত্তিকর কথা বললে আমার সাথে এদের রাজনীতি করার প্রয়োজন নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, যারা ক্যাম্পাসে অপকর্মে করবে তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে তাদের শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে যদি কেও চাদাবাজি করে থাকে এবং তাদের নাম জানতে পারলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। আমরা এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগীতা চাই।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি