ইসিকে বিব্রত করা ঠিক না: কাদের
বাংলাপ্রেস অনলাইন :অর্থমন্ত্রী একাদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বলে দেওয়ায় তা নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকর হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেছেন, “এটা বলার দায়িত্ব আমাদের না, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলেরও কোনো নেতার না।”
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে সাংবাদিকরা আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি একথা বলেন।মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য মুহিত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচন হতে পারে আগামী ২৭ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হতে পারে।নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে মুহিতের কথারও সমালোচনা করেন কাদের।
তিনি বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কী হবে, আকারে কতটা ছোট হবে, কেবিনেটে কতজন থাকবে, তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।”মুহিতকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, “আমাদের যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।”বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত ‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দিবো। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই।
“বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এ বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না কি?”সংসদ নির্বাচনের আগে দলের রাজশাহী মহানগর ও জেলার নেতাদের সঙ্গে এদিন মতবিনিময় সভা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে স্বীকার করেন তিনি।“রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়, অন্যরাইও চাইতে পারেন।
“চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে, যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।”নৌকার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুকদের সর্তক করে কাদের বলেন, “অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলানামা, এসিআর আছে, ছয় মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে।
রাজশাহীর নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, “শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না। নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন, এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেওয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয়, দল তাকে মূল্যায়ন করবে।”
মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল উপস্থিত ছিলেন। বাংলাপ্রেস/এফএস
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি