ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার আহ্বান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির
যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার আহ্বান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির
নোমান সাবিত: শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনকে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ধারাবাহিকভাবে ইরানি শাসনব্যবস্থাকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে, অঞ্চলে ও আমাদের ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং নিজ জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা ও দমননীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এসেছে।
তারা আরও বলেন, আমরা এই হামলায় অংশ নিইনি, তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক অংশীদারদেরসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছি। আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জীবনের সুরক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।
গত বৃহস্পতিবারও জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মিলিত হন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ছিল 'এ পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র।'
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তি করতে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি 'খুব সন্তুষ্ট নন।' কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি সতর্ক করে আসছিলেন—চুক্তি না হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
শনিবার ভোরে ট্রুথ সোশালে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প 'বৃহৎ সামরিক অভিযান'-এর ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বানও জানান এবং পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইরানিদের জন্য 'স্বাধীনতা' চান।
জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা ইরানের পাল্টা হামলারও তীব্র সমালোচনা করেন, যা প্রতিবেশী দেশ ও পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে তারা লেখেন, 'আমরা এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ইরানকে নির্বিচার সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানাই এবং ইরানি নেতৃত্বকে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার অনুরোধ করছি। শেষ পর্যন্ত ইরানি জনগণকেই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।'
শনিবারের হামলার পর সহিংসতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে পৃথকভাবেও সতর্ক করেছেন তিন দেশের নেতারা এবং উত্তেজনা প্রশমনের বৈশ্বিক আহ্বানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, যৌথ অভিযানটি 'আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, চলমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ইরানি শাসনব্যবস্থাকে বুঝতে হবে—তাদের সামনে এখন সৎভাবে আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, যাতে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটে।
তিনি আরও যোগ করেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের সবার নিরাপত্তার জন্য এটি একান্ত প্রয়োজন।'
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি