৫ মে ২০২৬

হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়ে যা বলল পিবিআই

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়ে যা বলল পিবিআই

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   জুলাই গণঅভ্যুত্থান সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করার বিষয়ে নানা আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পিবিআই এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মামলাটির ভুক্তভোগীর নাম ঠিকানার সকল তথ্য ভুয়া। হামলার ঘটনার উল্লেখিত সময়ে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করেননি। মামলাটি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।  

এদিকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বাদী শরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।   

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ সাল) চূড়ান্ত রিপোর্ট আদলতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে, যা ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।  

পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পিবিআই জানায়, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) (পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭) (পিতা—মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবগ, ঢাকা)-সহ শুধু নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও নয়জনের শুধু নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট (২০২৪) বেলা ১১টা উল্লেখ করেন।

আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেননি এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নন। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।

ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সঙ্গে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লিখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি। 

বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে এবং সরাসরি বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেননি। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেননি। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।

সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি