হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণ-বৈষম্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মামলা
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি :শিক্ষার্থী ভর্তিতে বর্ণ-বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণ-বৈষম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনে।এবার বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত সোমবার থেকে এই মামলার শুনানি শুরু করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
মামলায় বলা হয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। তবে আপনি যদি বর্তমান সময়ে একজন এশিয় বংশোদ্ভ’ত আমেরিকান নাগরিক হিসেবে হার্ভার্ডে ভর্তি হতে চান সেইক্ষেত্রে আপনাকে দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হতে হবে। এশিয়-আমেরিকান নাগরিকদের নাকি ইচ্ছে করেই কম ভর্তি করছে হার্ভার্ড। আল জাজিরা জানায়, হার্ভার্ডের সামগ্রিক ভর্তি প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব নিয়েও মুল্যায়ন করার ব্যবস্থা রয়েছে । এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এশিয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের মুল্যায়নে কম নাম্বার দেয় হার্ভার্ড। মূলত, দক্ষিণপূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থায় সবচাইতে বেশি বৈষম্যের শিকার। ভর্তি হওয়ার পর এশিয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা সকল ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করলেও এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বছরের পর বছর ধরে চালু রেখেছে হার্ভার্ড।
তবে এই আইনিপ্রক্রিয়ায় নিজেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যার সমতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে আইনি অভিযোগে বলা হয়, শ্বেতাঙ্গ এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার প্রয়োগ যথেষ্ট শিথিল। বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশ আন্ডারগ্রাজুয়েট এশিয়ান-আমেরিকান ছাত্র হার্ভার্ডে অধ্যয়ন করছেন। বাকিদের মাঝে শ্বেতাঙ্গ এবং ভারতীয়রাই অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
এই ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এশিয়-আমেরিকান ছাত্রদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, শুধু বংশ পরিচয়ের কারণে কোন আমেরিকান নাগরিক শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত এটি সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এই বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার এক্তিয়ার রয়েছে কেবল মার্কিন আদালতের। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে নিজেদের রায় ঘোষণা করতে পারেন মার্কিন বিচারকগণ। এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলির ভর্তি প্রক্রিয়ায় বর্ণবাদি নীতি প্রত্যাহারের বিষয়টি।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
১৯ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি