৪ মে ২০২৬

হাজারো রেস্তোরাঁ বন্ধের আশঙ্কা কলকাতায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
হাজারো রেস্তোরাঁ বন্ধের আশঙ্কা কলকাতায়

গ্যাস সংকটে বন্ধ হতে পারে কলকাতার হাজারো রেস্তোরাঁ।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   ভারতের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বড় মহানগর কলকাতায় এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার দাবি অনুযায়ী, অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শহরের অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

সংগঠনের কর্তা সুদেশ পোদ্দার জানান, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে শহরের হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলিতে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিছুটা করে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে একেবারেই গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সুদেশ পোদ্দার বলেন, ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ছিল। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ১০টি সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে ৫টি করে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল। এতে করে অনেক রেস্তোরাঁকে সীমিতভাবে রান্না চালিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সামনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় সরাসরি এই সংগঠনের সদস্য রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও অনেক ছোট-বড় হোটেল ও খাবারের দোকান যুক্ত রয়েছে। এই হিসেবে শহরে প্রায় পাঁচ হাজার রেস্তোরাঁ এই সংকটের প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুদেশ পোদ্দার জানান, রেস্তোরাঁগুলিতে সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মতো গ্যাস সিলিন্ডারের স্টক থাকে। কোথাও তিন দিন কোথাও চার দিন আবার কোথাও সাত দিনের বেশি স্টক থাকে না। ফলে যদি অবিলম্বে নতুন করে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু না হয় তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কাল কিংবা পরশু থেকেই শহরের বহু রেস্তোরাঁয় গ্যাসের ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা দিতে শুরু করবে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়েছে। 

সুদেশ পোদ্দারের কথায়, যদি গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়া যায় তাহলে রেস্তোরাঁগুলোতে রান্না করা সম্ভব হবে না। আর রান্না না করতে পারলে গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে শহরের বহু ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁ মালিক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যবসা কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

কলকাতার খাদ্য ব্যবসা শহরের অর্থনীতির একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। হাজার হাজার কর্মী এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। ফলে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেলে বহু কর্মীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কলকাতার অধিকাংশ রেস্তোরাঁই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি