হাইকোর্টে মিন্নির জামিন প্রশ্নে রায় আজ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বরগুনার কলেজ গেটের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ২টায় তার জামিন হবে কি হবে না তা জানা যাবে।
বুধবার (২৮ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরোয়ার হোসাইন বাপ্পী ও মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী মিন্নির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির যাবতীয় নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হন। একইসঙ্গে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের স্ত্রীর দোষ স্বীকারের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
শুনানিতে আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালতকে বলেন, আয়শা ১৯ বছর বয়সী একটা মেয়ে। তার স্বামী এ ঘটনায় মারা গেছেন। তার পালানোর কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো শর্তে আমরা শুধু তার জামিন চাই। প্রয়োজনে আমি নিজে গ্রেন্টার হব।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আদালতকে জানান, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আদালত নয়ন বন্ডের ক্রশফায়ার সম্পর্কে জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়ন বন্ডকে ধরতে অভিযান চালাই। এ সময় তারা আমাদেরকে পাল্টা আক্রমণ করে। আমরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাই। তখন আদালত ঘটনার তারিখ জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার নথি সাবমিট করেন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরোয়ার হোসাইন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, তিনি (মিন্নি) ঘটনার পরিকল্পনাকারী। এখনো মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়নি। এছাড়া, তিনি (মিন্নি) রিফাত হত্যার আগে ৮ বার ও হত্যার পর আরও ৫ বার নয়ন বন্ডের টেলিফোনে কথা হয়। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে যেন জামিন দেওয়া না হয়।
পরে মিন্নির আইনজীবী আদালতকে বলেন, মিন্নি কিন্তু নয়নবন্ডকে ফোন করে নি। এগুলো ছিল ইনকামিং কল। তাছাড়া, ক্রসফায়ারের আগে পুলিশের সঙ্গেওতো নয়ন বন্ডের টেলিফোনে ৭৭ বার কথা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষতো সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছেন না।
গত ২০শে আগস্ট কারাগারে থাকা নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই দিন সরকারের সংশ্লিষ্টদেরকে সাতদিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি