ঘুষ চক্রে জড়িত থাকার দায়ে নিউ ইয়র্কের এক ব্যক্তিকে আট মাসের কারাদণ্ড
জেমস রাউশের আট মাসের কারাদণ্ড
নোমান সাবিত: মোবাইল মেডিকেল ডায়াগনস্টিকস কোম্পানির উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের সাবেক সেলস ডিরেক্টর, নিউ ইয়র্কভিত্তিক জেমস রাউশকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বোস্টনের ফেডারেল আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ব্রেইন স্ক্যান করানোর বিনিময়ে চিকিৎসকদের ঘুষ (কিকব্যাক) দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
৫৭ বছর বয়সী জেমস রাউশ, পয়েন্ট জেফারসন স্টেশন, নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা, তাকে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক নাথানিয়েল এম. গোর্টন আট মাসের কারাদণ্ড দেন। সাজা ভোগের পর তাকে এক বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তি (সুপারভাইজড রিলিজ) কাটাতে হবে। এছাড়া তাকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪২ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৪ লাখ ৮ হাজার ৪৩৭ ডলার বাজেয়াপ্তকরণ এবং ২০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে রাউশ অ্যান্টি-কিকব্যাক আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে অন্তত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাউশ আরও কয়েকজনের সঙ্গে, যার মধ্যে একটি মোবাইল মেডিকেল ডায়াগনস্টিকস কোম্পানির দুই ম্যানেজার ছিলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কিকব্যাক চুক্তি করার ষড়যন্ত্র করেন। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি ট্রান্সক্র্যানিয়াল ডপলার (টিসিডি) স্ক্যান করত যা মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্তপ্রবাহ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
রাউশ ও তার সহযোগীরা চিকিৎসকদের অর্ডার করা টিসিডি আল্ট্রাসাউন্ডের সংখ্যার ভিত্তিতে নগদ বা চেকের মাধ্যমে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। তারা তথাকথিত ভাড়া ও প্রশাসনিক সেবা চুক্তি তৈরি করেন, যাতে কাগজে–কলমে মনে হয় চিকিৎসকদের চেম্বারের জায়গা ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহারের জন্য ন্যায্য বাজারমূল্যে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে, রেফারেলের পরিমাণ বা মূল্যের ভিত্তিতে নয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো ছিল ভুয়া চুক্তি, যা প্রতি পরীক্ষার বিপরীতে অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করত।
এই প্রতারণার ফলে মেডিকেয়ারের কাছে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার পরিশোধ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি লিয়া বি. ফোলিসহ একাধিক ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তারা এই ঘোষণাটি দেন। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ম্যাকেঞ্জি কুইনিন, যিনি হেলথ কেয়ার ফ্রড ইউনিটের প্রধান।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি