৬ মে ২০২৬

গাংনীতে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
গাংনীতে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগ

মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরে সরকারি নির্দেশ না থাকলেও প্রশিক্ষণ প্রত্যাশিদের কাছ থেকে ভর্তি ফরমের মুল্য বাবদ ৫০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মহিলা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

মহিলা অধিদপ্তরে তিনটি ব্লক বাটিক, বিউটিফিকেশন ও সেলাই (দর্জি) ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ৩০ জন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যারা প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক মহিলা অধিদপ্তর থেকে তাদের নির্দিষ্ট একটি ফরম গ্রহন করতে হয় সরকারিভাবে তার কোন মুল্য নেওয়ার নিয়ম নেই বলে অফিস সুত্রে জানা যায়।

এদিকে ৩০ জনের বিপরীতে কোন কোন ক্যাটাগরীতে ১শ’ থেকে দেড়শরও অধিক ফরম বিক্রয় হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্যাটাগরীতে ৭০ বা ৯০ টিরও বেশি ফরম বিক্রয় করে থাকে। তাতে তিন ক্যাটাগরীতে মোট ৭০ জনের বিপরীতে ৩ শ’রও অধিক প্রশিক্ষন প্রত্যাশীদের ফরম ক্রয় করা লাগে যার মুল্য অফেরত যোগ্য বলে অফিস সুত্রে জানা যায়। প্রশিক্ষণের আগে ফরম বাবদ সরকারি নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে দরিদ্র মেয়েদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মহিলা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাওয়া হলে মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোছাঃ নাসিমা খাতুন জানান, আমি এখন ছুটিতে বরিশালে আছি তবে ফরম বাবদ কোন টাকা নেওয়ার নিয়ম নাই। কেউ টাকা নিচ্ছে কিনা আমার জানা নেই। যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে আমি অফিসে এসে সেটা ঠিক করব। তিনি আরো বলেন ফরমের বিষয়টি দেখাশুনা করে আমাদের দর্জি প্রশিক্ষক আরিফা খাতুন।

আরিফা খাতুনের সাথে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফরম বাবদ টাকা নেওয়ার কথা ¯^ীকার করেন। এবং বলেন মৌখিক পরীক্ষার দিন বাইরে থেকে কর্মকর্তারা আসেন তাদের আপ্যায়নের জন্য খরচ হয় সেটা সরকারি ভাবে বহন না করায় আমরা ফরম বাবদ ৫০ টাকা করে নিয়ে থাকি। তিনি এও বলেন আগে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো এখন ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। ফরম বাবদ টাকা নেওয়ার জন্য সরকারিভাবে কোন নির্দেশ আছে কিনা জানতে চাইলে আরিফা খাতুন বলেন সরকারিভাবে কোন নির্দেশ না থাকলেও আমরা নিয়ে থাকি।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ পাল বলেন, সরকারের নিয়মের বাইরে হতদরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে ফরম বাবদ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহল মনে করেন বাংলাদেশের হতদরিদ্র মহিলাদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকার বিনামুল্যে প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করেছেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদের নিজের পায়ে দাড়াবার জন্য সহজ শর্তে ঋন দিয়ে থাকেন। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিদের কারণে সরকারের লক্ষ বাস্তবায়ন হতে পারছেনা। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দেওয়া উচিৎ।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি