৭ মে ২০২৬

গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি করানো যাচ্ছে না অনার্সের ছাত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি  করানো যাচ্ছে না অনার্সের ছাত্রী

রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিবি রোডে অবস্থিত সরকারি মহিলা কলেজ এ জেলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখনো এই কলেজে শুরু হয়নি উচ্চ শিক্ষা অনার্র্সের (সম্মান) কার্যক্রম। কয়েকদফা আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ আগষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনার্সের জন্য বাংলা ও ইতিহাস বিভাগের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেওয়ার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিদর্শন টিম না আসায় ছাত্রী ভর্তি করানো যাচ্ছে না কলেজটিতে। ফলে আগামী ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষেও ছাত্রীরা এই কলেজে উচ্চ শিক্ষা (অনার্স) থেকে বঞ্চিত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

কলেজ সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালের ১৩ আগষ্ট প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ সরকারিকরণ করা হয় ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর। উচ্চ মাধ্যমিক  (বিএ ও বিএসএস) শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় দুই হাজার। রয়েছে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন ও চারতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার একটি ছাত্রী হোস্টেল। অনার্সের বাংলা ও ইতিহাস বিষয়ের অনুমোদন দেওয়ার পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায়। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি টিম কলেজ পরিদর্শন করার কথা থাকলেও আজ অবধি কেউ আসেনি। ফলে বিষয় দুটিতেও ছাত্রী ভর্তি করাতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা তাসনিম ফেরদৌস, ইশরাত জাহান, উম্মে সালমা, মিম আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমরা মেয়েরা অনেকটা নিরাপদে এই কলেজে পড়াশোনা করেছি। এখন এই কলেজে অনার্স না থাকায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর অন্য কলেজে ভর্তি হতে হবে। এতে করে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হবো বলে মনে করছি। পৌর এলাকার মুন্সিপাড়ার অভিভাবক নাজমা আখতার বলেন, মেয়ের বাড়তি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই মহিলা কলেজে ভর্তি করে দিয়েছি। এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ শেষ হলে উচ্চ শিক্ষার জন্য আর এখানে অনার্সে ভর্তি করাতে পারবো না। বিষয়টি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি। তাই অতিদ্রুত এই কলেজে অনার্সের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা জানান, জেলা পর্যায়ে একটি মহিলা কলেজে অনার্সের কার্যক্রম থাকার কথা থাকলেও আজও আমাদের স্বনামধন্য এই কলেজে কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিষয়টি শিক্ষক, ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য খুবই হতাশার। এ জেলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কলেজে অনার্স চালু হলেও জেলার একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স চালু না হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ছাত্রী ও অভিভাবকদের। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুল কাদের বলেন, শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিম না আসায় অনার্সের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না কলেজটিতে। কলেজে পরিদর্শনের বিষয়ে দীর্ঘদিনেও অগ্রগতি না হওয়ায় গত ৯ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হলেও কোন কার্যক্রম দেখছি না।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি