ফরিদপুরে বাইসাইকেলে ছুটে চলেন ‘এই পেপার’ রুস্তম
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
ফরিদপুর প্রতিনিধি: পত্রিকার পাঠক মহলে এক নামে চেনেন তার নাম হলো “রুস্তম ”। যাকে পত্রিকার সরবারহকারি বলে চেনেন এমনকি তাকে অনেক সময় ডাকা হয়, ‘এই পেপার’, ‘ওই পত্রিকা’ ইত্যাদি নামে। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে বাই সাইকেলে পত্রিকা নিয়ে ছোটেন শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। এ ভাবেই সে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে চলছেন রুস্তম শেখ।
বোয়ালমারী শহর থেকে শুরু করে কামারগ্রাম, মহিলাকলেজ, সৈয়দপুর, সাতৈর, ঘোষপুর, শেলাহাটি, দতরকাঠি, গোহাইলবাড়ি হয়ে মধুখালির নওপাড়া পর্যন্তু বাইসাইকেল করে পত্রিকা নিয়ে ছুটে চলেন প্রতিনিয়ত। এরই মাঝে গ্রাহকদের থেকে পত্রিকার টাকা আদায় করেন। তিনিই এ এলাকায় একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা। প্রতিদিন সকালে তিনি বাইসাইকেল চালিয়ে বোয়ালমারী চৌরাস্তা থেকে পত্রিকার এজেন্ট এম এম জামান এর কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করেন, পত্রিকা সংগ্রহ করে এক দোকান থেকে আরেক দোকান, এক বাড়ি হতে আরেক বাড়িতে গিয়ে পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেন। মানুষের অধিকার আদায়ের খবর বিলি করলেও তিনি নিজের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ তিনি পত্রিকার সম্পাদক ও পাঠক উভয়ের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরিতে ভ‚মিকা রাখেন।
এলাকায় ও সমাজে ‘সরবারহকারি’ নামেই তার পরিচয়। রুস্তম ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের আজান হলে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। এরপর সংসারের টুকিটাকি কাজ সেরে নেন তিনি। রুস্তুমের গ্রামের বাড়ি বোয়ালমারী শহর থেকে ২ কিলো দুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের বাগুয়ান গ্রামে। সে এই ব্যবসার মাঝে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাবা মা’, স্ত্রী, সহ ২ মেয়ে নিয়ে রুস্তমের সংসার। দুটি সন্তানের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করাই রুস্তমের স্বপ্ন।
কথা হয় রুস্তম শেখের সাথে, তিনি বলেন, ২০ বছর বয়স থেকে ২০০৫ সালে আমি এ ব্যবসার সাথে জড়িত হই। আমার পত্রিকা বিক্রির এলাকায় আমাকে সকলেই খুব স্নেহ ও ভালোবাসেন। আমার পত্রিকার ব্যবসা করতে খুব ভালোলাগে, প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে ভোরে পত্রিকা সংগ্রহ করি। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় বা কনকনে শীত, যা-ই থাকুক না কেন, সব সামলে পত্রিকা ঠিকই পাঠকের দ্বারে পৌঁছে দেই। পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌছে দিয়ে আমার বাড়ি ফিরতে কোন দিন রাত সাতটা আটটা ও বেজে যায়। পত্রিকা বিক্রি কমে যাওয়ায় আমাদের হকারদের পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হয়। আর পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় সংবাদপত্রের গ্রাহকেরা বাসা এবং অফিসে আগের মতো পত্রিকা নেয়া বন্ধ করে দেয়ায় পত্রিকা বিক্রিতে বিরাট ধস নেমে আসে। অথচ পত্রিকার পেছনে আলাদাভাবে লেখা রয়েছে পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। জীবনের কথা বেশ আনন্দ নিয়ে বলা শুরু করলেন এই রুস্তম শেখ। পত্রিকা বিক্রি করে মাস শেষে যা আয় করি, তা পরিবারে ব্যয় করি।
তিনি আরো বলেন, গ্রামে পত্রিকা এখন খুব কম বিক্রি হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকলেই খবর পড়ে থাকে। আগের চেয়ে এখন পত্রিকা কম চলে। তবুও পত্রিকা বিক্রি করছি অল্প স্বল্প। নিজেদের খরচ বাড়লেও পত্রিকার দামও আমাদের পাওনা তো বাড়ে না। বছরে দুটো ঈদ এলে পত্রিকার হকাররা পান না কোনো বাড়তি সহযোগিতা। এখন পত্রিকা বিক্রি কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘পত্রিকা মালিকেরা পত্রিকা প্রিন্ট দিয়েই খালাস কিন্তু দিনদিন পাঠক বৃদ্ধি করা কিংবা পাঠক ফোরাম করার কোনো চিন্তা তাদের মাথায় নেই। এতে বিক্রির পরিমাণ দিনে দিনে কমছে।’
এ ব্যপারে বোয়ালমারী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক দাউদুজ্জামান দাউদ বলেন, রুস্তম শেখ একজন পরিশ্রমী ছেলে দীর্ঘদীন সুনামের সাথে পত্রিকা ব্যবসা করে আসছে। তার পরিবারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস বাড়াতে চাই, এবং আমি রুস্তমের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি