ফেডারেল অনুমোদনের অপেক্ষায়
ফ্লোরিডায় চালু হচ্ছে তৃতীয় অভিবাসন আটক কেন্দ্র
মিনারা হেলেন: ফ্লোরিডায় তৃতীয় একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র চালুর জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য সরকার। এর আগে রাজ্যে ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ ও ‘ডিপোর্টেশন ডিপো’ নামে দুটি আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চতুর্থ একটি কেন্দ্র নিয়েও ভাবনা চলছে বলে সোমবার জানান গভর্নর রন ডিসান্টিস।
উত্তর-পশ্চিম ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চলে প্রস্তাবিত তৃতীয় আটক কেন্দ্রের জন্য স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) -এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্য কর্মকর্তারা এ কথা ডিস্যান্টিস জানান উত্তর-পূর্ব ফ্লোরিডায় সাবেক বেকার সংশোধনাগারের স্থানে গড়ে ওঠা দ্বিতীয় আটক কেন্দ্র ‘ডিপোর্টেশন ডিপো’র বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে।
ডি স্যান্টিস বলেন, ওরা অনুমোদন দিলে আমরা খুলব। অনুমোদন না দিলে অপেক্ষায় থাকব তাতেও সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয় অনুমোদন দেওয়া উচিত, কারণ আটক কেন্দ্রের সক্ষমতা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম।
গভর্নর জানান, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আরেকটি সম্ভাব্য বিকল্প রয়েছে, যেখানে ফ্লোরিডা এভারগ্লেডসের এক প্রত্যন্ত বিমানপথে ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য দুটি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে গভর্নরের প্রেস সেক্রেটারি মলি বেস্ট ইমেইলে জানান, প্যানহ্যান্ডেলের কেন্দ্রটি ফেডারেল অনুমোদন পেলেই অবস্থান ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, এই কেন্দ্র এবং প্রস্তাবিত অতিরিক্ত দক্ষিণ ফ্লোরিডার অবস্থান অনুমোদন ও চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিস্তারিত জানাতে পারছি না। অপেক্ষায় থাকুন!
ডিস্যান্টিস আরও জানান, গত এক বছরে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ফ্লোরিডায় অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও ১০ হাজার গ্রেপ্তার করেছে মোট গ্রেপ্তার ২০ হাজার। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৬৩ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধে গ্রেপ্তার বা দণ্ডের রেকর্ড ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অভিবাসন কড়াকড়ি নীতিকে সহায়তা করতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় ফ্লোরিডাই এগিয়ে থেকে এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছে বলে জানান ডি স্যান্টিস। তাঁর মতে, আরও বেশি অভিবাসী আটক ও বহিষ্কারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত সক্ষমতা দরকার। ট্রাম্প প্রশাসনও রিপাবলিকান গভর্নরদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ফ্লোরিডার অংশীদারত্বকে অন্য রাজ্যের জন্য একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে এভারগ্লেডসের আটক কেন্দ্রে থাকা বন্দিদের পক্ষে আইনজীবীরা সেখানে পরিস্থিতিকে ‘শোচনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। আদালতে দাখিল করা নথিতে তাঁরা বলেন, বৃষ্টির পানি তাঁবুতে ঢুকে পড়ে এবং কর্মকর্তারা বন্দিদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় বহিষ্কারের কাগজে সই করতে চাপ দেন। এভারগ্লেডস কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে ফ্লোরিডায় বর্তমানে তিনটি ফেডারেল মামলা চলছে।
এক মামলায় বন্দিরা দাবি করেছেন, অভিবাসন বিষয়টি ফেডারেল এখতিয়ারের হওয়ায় রাজ্য সংস্থা বা রাজ্যের নিয়োগ করা বেসরকারি ঠিকাদারদের এ কেন্দ্র চালানোর আইনগত ক্ষমতা নেই তাই এটি বন্ধ করা হোক।
দ্বিতীয় মামলায় বন্দিরা তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করার আদেশ চেয়েছেন।
তৃতীয় মামলায়, গত গ্রীষ্মে মিয়ামির এক ফেডারেল বিচারক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন না করায় দুই মাসের মধ্যে কেন্দ্রটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে আপিল আদালতের একটি প্যানেল আপাতত সেই আদেশ স্থগিত রেখেছে, ফলে কেন্দ্রটি খোলা রয়েছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি