৮ মে ২০২৬

ডোমারে রাজাকার পুত্রের হাতে পতাকা উত্তোলন করায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বর্জন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ডোমারে রাজাকার পুত্রের হাতে পতাকা উত্তোলন করায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বর্জন

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) থেকে: নীলফামারীর ডোমারে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাজাকার পুত্রের হাতে বিজয় দিবসে পতাকা উত্তোলন করায় মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন দেন-দরবার করেও বর্জনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে ফেরাতে পারেননী। পরে তারা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বিজয় দিবস পালন করেন।

এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে বিজয় দিবসের জাতীয় পতাকা উত্তোলন কালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ অংশ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে রাজাকারের নাতী ও পুত্রের অভিযোগ তুলে মুক্তিযোদ্ধারা ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান। এ সময় তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজাকারের নাতী ও পুত্রের নানা রকম শ্লোগান তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরননবী বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা কোন রাজাকার পুত্রের হাতে তা উত্তোলনের জন্য নয়। তার হাতে পতাকা উত্তোলন স্বাধীনতাকে অবমাননাকর মনে করে আমরা তার প্রতিবাদে অনুষ্ঠান বর্জন করেছি। তিনি আরো বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় প্রথম ধাপে যে, ১০৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে ১০২৫ নং তার বাবা শওকত আলী। ১০৬১ তার দাদা চাটি মামুদ ও ১০২৪ তার নানা ছমিরুদ্দিনের নাম তালিকায় রয়েছে। এলাকার রাজাকার সামছুল হক টোগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে তোফায়েলের বাবা যুদ্ধকালিন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে মুক্তিকামী মানুষের সম্পদ লুটপাটে সহযোগিতা করেছিলেন।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল বলেন, তোফায়েল আহমেদ ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত ফ্রিডম পার্টির প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সম্বয়নকারী ছিলেন। দিন বদলের পালায় তার অপকর্ম থেকে পরিত্রাণ পেতে সুযোগ বুঝে আ’লীগে অনুপ্রবেশ করেন। অনুপ্রবেশের পর প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটি দখল করে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকার ইমেজের ওপর ভর করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তার মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী চেহারা পরিস্কার হয়ে উঠে। সেই রাজাকারের পুত্র ও ফ্রিডম পার্টির নেতা আজ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদকে পুঁজি করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে এটি মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের কেউ মেনে নিতে পারেনি। একারণে সরকারী ওই অনুষ্ঠান বর্জণ করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বিজয় দিবস পালন করেছে।

ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, তোফায়েল একজন রাজাকার পুত্র, চয়ন হত্যা মামলার সে একজন আসামী। ফ্রিডমপাটির সাবেক নেতা তোফায়েলকে আ’লীগ থেকে বহিস্কারের দাবি জানাচ্ছি। উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনজিলুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৭১ সালে আমার চাচা সাবেক হুইপ আব্দুর রউফ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকা কালীন তার বাড়ীতে পাক সেনারা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়ারসময় পাকসেনাদের সহযোগিতা করেিেছলেন তোফায়েলের বাবা শওকত আলী, যা আমি প্রত্যক্ষ দেখেছি। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অংশটুকু বর্জণ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের মুঠো ফোন- ০১৭৪০-৬৪৬২৮৮ নম্বরে একাধীক বার ফোন করে তা বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি