৭ মে ২০২৬

দক্ষিণ টেক্সাসের আন্তর্জাতিক সেতু বন্ধ, সিবিপি কর্মকর্তারা মারমুখি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
দক্ষিণ টেক্সাসের আন্তর্জাতিক সেতু বন্ধ, সিবিপি কর্মকর্তারা মারমুখি
  আবু সাবেত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিল শহরের গেটওয়ে আন্তর্জাতিক সেতুটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পোশাক পরিহিত মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) অফিসারদের একটি দলকে সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করতে করতে অস্থায়ীভাবে সেতুটি বন্ধ করেন। তা দেখে অভিবাসীরা অবাক এবং ক্ষুব্ধ হন। গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন সম্পর্কিত ব্যাপক নির্বাহী আদেশ জারি করার পর ১৮ জন অফিসার হেলমেট এবং ফেস শিল্ড পরিহিত অবস্থায় ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সীমান্তে উপস্থিত হন। তারা আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দক্ষিণে রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেন। ব্রাউনসভিলের ১৯ বছর বয়সী জাইলি ক্যাড্রিয়েল জানান, তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। সিবিপি অফিসাররা তাকে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। ক্যাড্রিয়েল বলেন, 'আমি এখানে গাড়ি পার্ক করে আমার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তারা আমার জানালায় নক করল না বা ভদ্রভাবে কিছু বলল না। তারা শুধু চিৎকার করতে লাগল, ‘এখান থেকে চলে যাও! এখান থেকে চলে যাও! যাও! যাও!’ আমি একজন মার্কিন নাগরিক, কিন্তু এমন ব্যবহার কখনো দেখিনি। এটা আমাকে খুব ক্ষুব্ধ করেছে।' ক্যাড্রিয়েল আরও বলেন, প্রত্যেকে মেক্সিকান কাগজপত্র থাকুক বা না থাকুক। তবে তারা আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে, তা খুবই অশোভন। টেক্সাস একসময় মেক্সিকোর অংশ ছিল তাই অন্তত আমাদের প্রাপ্য সম্মানটা দিন। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের অংশ হিসেবে 'মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন প্রোটোকলস' বা 'রিমেইন ইন মেক্সিকো' নীতি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের অভিবাসন কার্যক্রম চলাকালীন মেক্সিকোতে থাকতে বাধ্য করা হয়। অনেক অভিবাসী এই সময়কালে সীমান্ত সেতুগুলোর কাছে অস্থায়ী ক্যাম্পে বা বিপজ্জনক মেক্সিকান সীমান্ত শহরগুলোর আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হন। শহরের রাস্তা দিয়ে অফিসারদের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পোশাকে মার্চ করাটা এখানে বিরল দৃশ্য এবং ক্যাড্রিয়েলসহ অনেকে আশঙ্কা করছেন যে এটি সীমান্ত অঞ্চলে একটি ভয়ানক বার্তা প্রেরণ করছে। এই কঠোর পদক্ষেপে অনেক অভিবাসী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের নিরাপত্তা এবং সম্মানের বিষয়ে শঙ্কিত। মাতামোরোস মেক্সিকো গেটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজের কাছে একটি ক্যাম্পের অবস্থান ছিল যা অভিবাসীদের থাকার জন্য গঠিত হয়েছিল। মেক্সিকান কর্মকর্তারা ওই স্থানে অভিবাসীদের থাকার নিরুৎসাহিত করেছিলেন এবং সম্প্রতি ক্যাম্পের সব চিহ্ন অপসারণ করেছেন। মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেনজামিন হাফম্যান ঘোষণা করেন যে সংস্থাটি মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন প্রোটোকলস (এমপিপি) পুনরায় চালু করেছে যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। হাফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, 'সীমান্ত পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে এবং ২০১৯ সালের এমপিপি নীতির পুনরায় প্রয়োগের জন্য মাঠের বাস্তবতা এখন অনুকূল। মঙ্গলবার মেক্সিকোর মাতামোরোস এবং রেইনোসার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অভিবাসনপ্রার্থীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যারা আগে জানতেন না এখন তারা জানার চেষ্টা করছেন যে সীমান্তে তাদের আর কতদিন থাকতে হবে। ট্রাম্পের নতুন এক আদেশ এই বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। আদেশে সিবিপি ওয়ান অ্যাপ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এই অ্যাপটি অভিবাসীদের মার্কিন সীমান্ত পোর্টগুলোতে আশ্রয়ের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছিল, যার মধ্যে গেটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজও ছিল। সাইডওয়াক স্কুলের কো-ডিরেক্টর ফেলিসিয়া রেঞ্জেল-স্যাম্পোনারো বলেন, 'মানুষ শুধু হতবাক হয়ে আছে। তারা এই তথ্য বুঝতে এবং গ্রহণ করতে চেষ্টা করছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা কিছু অভিবাসী এখনও ব্রিজে গিয়েছিলেন। আশা করেছিলেন যে তারা ঢুকতে পারবেন। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগই আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরে আসেন। রেঞ্জেল-স্যাম্পোনারো আরও বলেন, মানুষ দাঁড়িয়েছিল এবং ভাবছিল, ‘কি হলো?’ সেখানেঅনেক গুজব এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি পরিবার যাদের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। তাকে জানায় যে তারা সেই সময় পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকবে এবং পুনরায় চেষ্টা করবে। আশা করছে তারা আশ্রয় সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবে। রেঞ্জেল-স্যাম্পোনারো আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের স্প্যানিশ ভাষার ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যা অভিবাসীদের মধ্যে আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি